কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য সাহাবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন পশ্চিমপাড়ার মহিন প্রামাণিকের ছেলে আসাদুল প্রামাণিক ওরফে কালু (৪৪), একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন (৫৫), ওমর আলীর ছেলে মিলন হোসেন (৩৫) এবং মাজিহাট এলাকার মসলেম মোল্লার ছেলে এবং মিটন পশ্চিমপাড়ার জালাল বিশ্বাসের জামাতা আবু তাহের (৪৭)।
রায় প্রদানকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের ছাড়া অন্য তিনজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। আবু তাহের পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তাদের মধ্যে হামলা, মামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। তারই ধারাবাহিকতায় এই মামলার বাদী সুমী খাতুনের স্বামী কৃষি-শ্রমিক সাহাবুল মন্ডল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বিকালে মিটন গিয়াসমোড় এলাকায় বাজার করতে যান সাহাবুল ইসলাম এবং তার ছেলে সাব্বির। বাজারের ব্যাগসহ সাব্বিরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন সাহাবুল। তার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন ২১ অক্টোবর বুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের একটি ধৈঞ্চা খেত থেকে সাহাবুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিন মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন সাহাবুল ইসলামের স্ত্রী সুমি খাতুন। যার মামলা নং-২৫। মামলাটি তদন্ত শেষে মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম জাবীদ হাসান ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় দীর্ঘ বিচারকার্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি আসাদুল প্রামাণিক ওরফে কালু। পরবর্তীতে সোমবার এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।
কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, মূলত গ্রাম্য দলাদলিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আসামিরা সাহাবুল ইসলামকে হত্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, রায় প্রদানকালে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এফআর