ইরানের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানির কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যালকম ডেভিস সিএনএনকে বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা খারগ দ্বীপে আমেরিকানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর সুযোগ পাবে, আর এতে শুধু প্রাণহানি বাড়তেই থাকবে।’
ইরানে যুদ্ধ মাস গড়ানোর পর খারগ দ্বীপে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিশ্র সংকেতের ভেতর ম্যালকম ডেভিস এমন মন্তব্য করলেন।
ট্রাম্প একদিকে শান্তির পথে অগ্রগতির কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে এই সুরক্ষিত দ্বীপে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
ইরান গত কয়েক সপ্তাহে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খারগ দ্বীপে বিভিন্ন ধরনের ‘ফাঁদ’ পেতেছে। সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে, মোতায়েন করেছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
পরিস্থিতি কোনোভাবেই শান্তির দিকে এগোচ্ছে, এমনটা বলার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাম্প আলোচনায় অগ্রগতির কথা বললেও পাশাপাশি খারগ দ্বীপে অভিযানের কথাও বলছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের পরিকল্পিত স্থল অভিযান শুরু করতে পারে বলে ধারণা করছেন ম্যালকম ডেভিস।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এটি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও নড়বড়ে করে তুলবে।
‘পরিস্থিতি কোনোভাবেই শান্তির দিকে এগোচ্ছে, এমনটা বলার কোনো সুযোগ নেই,’ বলেন তিনি।
ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জন্য একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি তিনি (ট্রাম্প) খারগ দ্বীপটি ধ্বংস না করে দখল করেন, তাহলে তিনি নিশ্চিত করতে পারবেন, ইরান সরকার আর কখনো তাদের আমলা ও সেনাদের বেতন দিতে পারবে না।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তনের পর তিনি নিশ্চিত করতে পারবেন, নতুন ইরানি সরকার নিজেদের পুনর্গঠনের খরচ নিজেরাই মেটাতে পারবে।’
‘পারস্য উপসাগরের নিঃসঙ্গ মুক্তা’ নামে পরিচিত এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’টি প্রাচীন ইতিহাস ও আধুনিক জ্বালানি সাম্রাজ্যের এক অনন্য মিশেল। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধেও এটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এখান থেকেই প্রধানত এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে তেল রফতানি করা হয়।
ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনটি প্রধান তেলক্ষেত্র—আবোজার, ফোরুজান ও দোরুদ থেকে তেল এখানে আসে এবং প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
সময়ের আলো/এআর