নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাসুম মিয়া (২২) নামের এক দুবাই প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তার বন্ধু রমজান মিয়াকে হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয় হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোক্তার হোসেন হত্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের টাওরা পশ্চিম পাড়া এলাকায় ঘটে এ হামলার ঘটনা।
নিহত মাসুম মিয়া টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর পর দুবাই থেকে দেশে আসেন মাসুম মিয়া। তার সঙ্গে একই এলাকার রাসেল মিয়ার পাওনা টাকা লেনদেন নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান মিয়া মোটরসাইকেলে করে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় নিজ বাড়ির সামনে ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়ক সংলগ্ন স্থানে প্রতিপক্ষ রাসেল মিয়া, মাহবুব মিয়া, উজ্জল ও তুষার মিয়াসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাসুম ও তার বন্ধু রমজানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মাসুমকে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার বন্ধু রমজানের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার মুমূর্ষু অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মাসুম মিয়া মারা যান। আর রমজান মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের স্বজনরা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। এছাড়া সোহেলের নামে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এলাকায় একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।
এসময় মাসুমকে হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি জানান নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
ওসি (তদন্ত) মোক্তার হোসেন বলেন, টাওরা এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। নিহতের পক্ষ থেকে রূপগঞ্জ থানায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফআর