নাটোর শহরের হাফরাস্তা এলাকায় একটি পেট্রোলিয়াম এজেন্সিতে কন্টেইনারে তেল না দেওয়ায় ওই পাম্পের সেলসম্যান শানু রায়কে বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর থানায় ওই পাম্পের মালিক মীর হাবিবুল আলম বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
অন্যদিকে আহত শানু রায়কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক ওই পাম্পে তেল দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হাফ রাস্তায় এলাকার রিয়াজুলের ছেলে শাহীন কন্টেইনারে তেল নিতে এলে শানু রায় তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে পিছন থেকে একটি বাটাম দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে শানু গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
এ বিষয় পেট্রোলিয়াম এজেন্সির মালিক হাবিবুল আলম বলেন, শাহিন আগে থেকেই দুই লাখ টাকা অথবা কন্টেইনারে জ্বালানি তেল দাবি করে আসছে। সে অনুযায়ী সে রাতে আবার আসছেন। তখন তেল দিতে শানু অস্বীকৃতি জানালে তাকে বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।
এ ছাড়া নাটোর পাবনা মহাসড়কে শহরের দত্তপারা রিভু পাম্পে হঠাৎ করে তেল দেওয়া বন্ধ করায় বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও বাইকাররা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে লালপুরে কন্টেইনারে তেল দেওয়ায় ভিডিও ধারণ করার সময় এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কদিমচিলাম এলাকায় সাদিয়া তেল পাম্পে এই ঘটনা ঘটে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয় পেট্রোল পাম্পগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি মনিটরিং বৃদ্ধি ও বিশৃঙ্খলা রোধে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাটোরের পেট্রোল পাম্পের মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করে সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
সময়ের আলো/জোই