ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর একজন শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করার দাবি জানিয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই হিজবুল্লাহর সবচেয়ে সিনিয়র কমান্ডারের হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (১ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরায়েলে’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বৈরুতে চালানো এই হামলায় কমান্ডার হাজ্জ ইউসুফ ইসমাইল হাশেম নিহত হন।
তিনি হিজবুল্লাহর দক্ষিণ ফ্রন্টের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা যায়।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সামরিক কার্যক্রমেরও নেতৃত্ব দিতেন তিনি।
ইসরায়েলি হামলায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ ও তৎকালীন দক্ষিণ ফ্রন্ট কমান্ডার আলি কারাকি নিহত হওয়ার পর হাশেম এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
আইডিএফ জানিয়েছে, ইসমাইল হাশেম ছিলেন ৪০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সিনিয়র কমান্ডার এবং সন্ত্রাসী সংগঠনটির শীর্ষ ব্যক্তিত্ব।
সংস্থাটি আরও দাবি করে, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সেনাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিয়েছেন এই হাশেম এবং সেগুলো বাস্তবায়নেও ভূমিকা রেখেছেন।
এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এর আগে বুধবার দুপুরে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী বৈরুত এবং নিকটবর্তী একটি শহরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে।
এতে বহু মানুষ আহত হয়েছে বলেও জানা যায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ বৈরুতের জনা এলাকায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছে।
ওই হামলায় পার্ক করে রাখা চারটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র থেকে জানা যায়।
রাজধানীর দক্ষিণে খালদে এলাকায় একটি গাড়িতে চালানো পৃথক হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে বলে অপর একটি বিবৃতি থেকে জানা যায়।
উল্লেখ্য, ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২ মার্চ ইসরায়েলের ওপর হামলা শুরু করে। এর মাধ্যমে লেবাননও মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
এর জবাব দিতে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালাচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে আসছিল।
তবে বৈরুতে এই হামলার পর উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূত্রগুলো।
একইসঙ্গে উত্তর ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন