সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন

সম্পাদকীয়

মতামত

রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে থাকা তো দূরের কথা,

2026-04-02T05:11:45+00:00
2026-04-02T05:11:45+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
মতামত
মশায় জিম্মি নগরবাসী
সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে থাকা তো দূরের কথা, ঘরের ভেতরেও স্বস্তিতে থাকতে পারছে না। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে নগরবাসীর জীবনে মশা এখন এক বড় আতঙ্ক। 

ঢাকা শহরে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও, মশার উপদ্রব দিন দিন বেড়ে চলেছে। এপ্রিল মাসের শুরুতেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে বাস্তবতা হলো, এ পর্যন্ত যে প্রচেষ্টা ও বরাদ্দের পরিমাণ রয়েছে, তাতে মশা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কতটা সফলতা আসবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দৈনিক সময়ের আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ওষুধ ছিটানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কাজ চলছে। তবে এসব প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হচ্ছে বলে মনে হয় না। বাসাবাড়িতে দিনের বেলায়ও মশার কামড় খাওয়া, রাতে মশারি টাঙিয়েও নিস্তার না পাওয়া- এটি প্রমাণ করে যে, কার্যক্রমের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাশিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ স্প্রে বা ধোঁয়া ছড়ানো যথেষ্ট নয়; লার্ভা ধ্বংসের জন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। 

এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তারে সক্ষম। আর তা নিয়ন্ত্রণে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা ঘুমানোর ঘর, টয়লেটের আশপাশে জমানো পানিতে প্রজনন করে, যেখানে নিয়মিত নজরদারির অভাব থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, পার্কিং এলাকা, খোলা ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থানে জমে থাকা পানির কারণে এই সমস্যা আরও বাড়ে। ফলে ওষুধ ছিটানো ছাড়াও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভ্যন্তরীণ গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে কিউলেক্স প্রজাতির মশা প্রায় ৯০ শতাংশ। এই প্রজাতির মশা ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ছাড়াও জাপানি এনসেফালাইটিসের মতো রোগের কারণ। অন্যদিকে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ওষুধের মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার পর স্প্রে এবং ফগিং কার্যক্রম চালানো হলেও, এর আরও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।

জনসাধারণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পরিত্যক্ত টায়ার, টবের পানিসহ জমানো পানি দ্রুত পরিষ্কার করা আবশ্যক। জনবল সংকট থাকলেও, স্বেচ্ছাসেবী ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত জলাভূমি ও খাল খনন এবং জলাধার পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে মশার প্রজনন ক্ষেত্র কমানো সম্ভব। 

মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য এককভাবে কোনো কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়। এটি একটি জটিল, বহুমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে; যা নগর জীবনের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনবে। 

এ ক্ষেত্রে মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ প্রতিনিয়ত চালিয়ে যেতে হবে। এ ব্যাপারে দুই সিটি করপোরেশনকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যেতে হবে। আর সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে বিশেষভাবে সচেতন করতে হবে। শুধু সিটি করপোরেশনের দিকে তাকিয়ে না থেকে বাড়ির ছাদে, ফুলের টবে ও আশপাশে যাতে পানি না জমে এবং সেখানে যাতে মশার লার্ভা না জন্মে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তা হলে মশার বিস্তার রোধ করা অনেক সহজ হবে। 


  বিষয়:   সময়ের আলো  সম্পাদকীয়  মশা  নগর  পরিকল্পনা 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: