চুয়াডাঙ্গায় তুলার বাম্পার ফলন, শত কোটি টাকার বিক্রি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় মাঠ জুড়ে গাছে গাছে ফুল, ফল এবং সাদা তুলা ফুটে রয়েছে। দূর থেকে তুলা গাছ গুলো দৃষ্টি কাড়ছে সবার।

2026-04-03T21:20:20+00:00
2026-04-03T21:20:20+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চুয়াডাঙ্গায় তুলার বাম্পার ফলন, শত কোটি টাকার বিক্রি
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২০ পিএম 
চুয়াডাঙ্গায় তুলার বাম্পার ফলন, শত কোটি টাকার বিক্রি
চুয়াডাঙ্গায় মাঠ জুড়ে গাছে গাছে ফুল, ফল এবং সাদা তুলা ফুটে রয়েছে। দূর থেকে তুলা গাছ গুলো দৃষ্টি কাড়ছে সবার। অর্থকরী ফসল হিসাবে প্রতি বছর বিস্তৃতি লাভ করছে তুলা চাষ। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ায় তুলা চাষ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তুলা চাষিরা মাঠ থেকে তুলা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন তুলা বিক্রি হবে যার বাজারমূল্য প্রায় ১০৫ কোটি টাকা। 

চলতি বছর ৯৬ টাকা কেজি দরে তুলা বিক্রি হচ্ছে। তুলার বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ করে তেল উৎপাদন সম্ভব। তুলার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে উচ্ছাস। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। 

অসময়ে তুলা উঠায় টাকা হাতে পাচ্ছেন কৃষকরা। যা পরিবারের কাজে ও অন্য ফসল চাষে সাহায্য করছে। তুলা চাষ ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে যেমন আমদানি কমবে অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। 

চুয়াডাঙ্গায় অল্প পরিসরে ১৯৯৪ সালে প্রথম তুলা চাষ শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর বাড়তে শুরু করে তুলার চাষ। দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় প্রথম দিকে কৃষকদের চাষে আগ্রহী করে তোলা সম্ভব ছিল না। নানাভাবে বুঝিয়ে এই চাষে নিয়ে আসে তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চুয়াডাঙ্গা জোনে তুলা চাষ করছেন কৃষকরা। লাভজনক চাষ হওয়ায় কৃষকরা এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রতি মৌসুমে বৃদ্ধি পাচ্ছে তুলা চাষ। প্রতি বিঘায় তুলা চাষে ২২ হাজার টাকা খরচ হলেও লাভ হয় ৩৫ হাজার টাকা।

দুই অর্থবছর থেকে চুয়াডাঙ্গা জোনে তুলা চাষে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সরকারি ভাবে। প্রণোদনা পাওয়ায় তুলা চাষে কিছুটা খরচ কম হচ্ছে কৃষকদের। যার ফলে তুলা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কৃষকের মাঝে সার, বীজ, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক সহ প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। হাইব্রিড জাতের হোয়াইট গোল্ড-২ ও ডিএম-৪ তুলা চাষ করায় পূর্বের তুলনায় ফলন বৃদ্ধি, খরচ কম, রোগ-বালাই না হওয়ায় লাভজনক হয়েছে।


শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বীজ বপনের ৫ দিনের মাথায় চারা বের হয়। তুলা ক্ষেত নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। ২ মাস পর গাছে ফুল ও গুটি আসা শুরু করে। গুটি গুলো ৪ মাসে পূর্ণতা পেলে তুলা উত্তোলনের পর কৃষকরা বিক্রি শুরু করে। এরপর গাছ থেকে আরও ২-৩ মাস তুলা পাওয়া যায়। চুয়াডাঙ্গা জোনে এই মৌসুমে ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে তুলা চাষ হচ্ছে। প্রতি মণ তুলা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪০ টাকায়। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলে কৃষকরা তুলা চাষে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।

তুলা চাষি হারুনর রশিদ বলেন, তুলা চাষ যদি ৪-৫ মাসে শেষ করা যেত তাহলে কৃষকরা বেশি আগ্রহী হয়ে উঠতেন। উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ দিয়ে তুলা চাষ সম্ভব হলে উৎপাদন বৃদ্ধি হতো, খরচ কম হলে লাভ আরও বেশি হতো।

তুলা চাষি হাসমত আলি জানান, মাঠ থেকে প্রতি কেজি তুলা উত্তোলন করতে খরচ হয় ১৩-১৫ টাকা। উন্নত দেশের মতো মেশিন দিয়ে তুলা উত্তোলন সম্ভব হলে খরচ অনেক কম হতো।

তুলা চাষি নুর হাকিম বলেন, সরকারী প্রণোদনা বাড়ানো গেলে অন্য কৃষকরা সুবিধা পেতো। তারাও চাষে আগ্রহ দেখাতেন। প্রতি বিঘায় খরচ বাদে ৩৫-৪০ হাজার টাকা লাভ হয়। এ ফসল অসময়ে উঠায় আমরা টাকা কাজে লাগাতে পারি।

চুয়াডাঙ্গা জোনাল অফিসের প্রধান ও তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেন দেবাশীষ বলেন, শুরুর পর থেকে এখন ভালো অবস্থায় রয়েছি। কৃষকরা নিজে থেকেই তুলা চাষে আগ্রহ দেখান। আমরা কৃষকদের প্রণোদনা সহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছি। কৃষকদের নিয়মিত তুলা চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এ বছর তুলার দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম পাচ্ছে কৃষকরা। তুলা চাষ আরও বৃদ্ধি করতে পারলে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে।


/ইউএমএইচ 



  বিষয়:   চুয়াডাঙ্গা  তুলা  বাম্পার ফলন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: