জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মার্কেটে দোকানপাট খোলা রেখে স্বাভাবিকভাবেই চলছে বেচাকেনা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সরেজমিনে উপজেলার কেরানীহাটসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, সব দোকানপাট নির্ধারিত সময়ের পরও খোলা রয়েছে। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে। এতে করে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সম্প্রতি একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা নির্ধারণ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব ধরনের মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
তবে মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দেশনার বিষয়টি জেনেছেন, কিন্তু এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা প্রশাসনের কঠোর তদারকি এখনো চোখে পড়েনি।
কেরানীহাটের একটি মোবাইল গ্যাজেট দোকানের মালিক বলেন, ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার কথা শুনেছি। কিন্তু কেউ বন্ধ করছে না, তাই আমরাও খোলা রেখেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি কঠোরভাবে বলা হয়, তখন অবশ্যই মানা হবে।
আরেক ব্যবসায়ী জানান, বিকেল ৪টার পর থেকেই বেচাকেনা বাড়ে। এই সময় দোকান বন্ধ করলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই সবাই পরিস্থিতি বুঝে দোকান খোলা রাখছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু নির্দেশনা জারি করলেই হবে না, তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও সমন্বয় জরুরি। অন্যথায় সরকারের জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আগের মতোই থেকে যাবে।
সময়ের আলো/জোই