দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকা চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনেও ভাড়া না বাড়াতে পারায় লোকসানে পড়েছেন নৌকার মাঝিরা। এতে একদিকে মাঝিরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, চরবাসীদের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় সারা বছরই তাদের নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে শ্যালো নৌকার চলাচল কমে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে যমুনা নদীর বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা রয়েছে বহু শ্যালো নৌকা। মাঝিরা বসে আছেন কাজের অপেক্ষায়। জ্বালানি সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরে নদীতে নৌকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক মাঝিই বেশি দামে তেল কিনে লোকসান গুনতে না চেয়ে নৌকা চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
পুরাতন জেলখানা ঘাটের মাঝি দেলোয়ার জানান, আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ থেকে ১০৩ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। কিন্তু ভাড়া না বাড়ায় আয় দিয়ে খরচই ওঠে না।
তিনি বলেন, সরকার যদি আগের দামে কিছু তেল সরবরাহ করত, তাহলে আমরা বাঁচতে পারতাম।
তেকানী ঘাটের মাঝি বেল্লাল হোসেন বলেন, একটি ট্রিপে আগে ২৩-২৪ লিটার তেলে প্রায় ২৫০০ টাকা খরচ হতো। এখন সেই খরচ বেড়ে ৩ হাজার টাকার বেশি হয়েছে। অনেক সময় খরচই ওঠে না।
এই ঘাটে প্রায় ৭২টি শ্যালো নৌকা চলাচল করলেও বর্তমানে অনেক নৌকা বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চৌহালী ও কাজিপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার প্রয়োজনে জেলা শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু নৌকা কমে যাওয়ায় তারা সময়মতো যাতায়াত করতে পারছেন না।
কাজিপুর উপজেলার তেকানী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, আগে প্রতি ঘণ্টায় নৌকা পাওয়া যেত, এখন তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমাদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।
এনায়েতপুর ঘাটের মাঝি সাগর জানান, বেশি দামে তেল কিনেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারছেন না। ৫-১০ টাকা বাড়াতে বললেও যাত্রীরা দিতে চায় না। লোকসান হলেও পেশা ছাড়ার উপায় নেই।
ঘাটের ইজারাদার ইউসুফ আলী বলেন, তেলের সংকট থাকলেও কিছু নৌকা চলাচল করছে। তবে অনেক মাঝি বেশি দামে তেল কিনতে না পেরে নৌকা চালাচ্ছেন না। তিনি মাঝিদের জন্য তেল সরবরাহে বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানান।
এদিকে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে তেলের দাম বাড়েনি। বাঘাবাড়ি বন্দর থেকে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও বেশি দাম নেওয়া হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাঝিরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে যমুনা নদীতে শ্যালো নৌকা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সময়ের আলো/আরবিএন