বরগুনার পাথরঘাটায় বেওয়ারিস কুকুরের হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত ৩ জনকে দ্রুত রেফার করা হয়েছে, আর বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাখাল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে সদর ইউনিয়ন থেকে একাধিক রোগী কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের পদ্মা, রুহিতা ও হাড়িটানা এলাকায় একটি সাদা-কালো বেওয়ারিস কুকুর ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
পদ্মা এলাকার বাসিন্দা হিরু জমাদ্দার জানান, তাদের একটি পরিবারের তিনজনকে কামড়ে কুকুরটি হাড়িটানার দিকে চলে যায়।
অন্যদিকে, হাড়িটানা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাহিন বলেন, তার চাচা আবুল কালামের ওপরও একই কুকুরটি হামলা চালায় এবং তার গালের মাংস ছিঁড়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় ভুক্তভোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কুকুর নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগসহ মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।
ইউএনও তাপস পাল জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই