শুকিয়ে যাচ্ছে বোরো খেত, কৃষকের চোখে জল

মো. হাইরাজ মাঝি, তালতলী

সারাদেশ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় জ্বালানি তেলের (ডিজেল, পেট্রোল ও অক্টেন) তীব্র সংকটে বিপন্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার একর বোরো ধান ও

2026-04-04T15:53:08+00:00
2026-04-04T16:18:40+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সেচের তেলের জন্য হাহাকার
শুকিয়ে যাচ্ছে বোরো খেত, কৃষকের চোখে জল
মো. হাইরাজ মাঝি, তালতলী
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম  আপডেট: ০৪.০৪.২০২৬ ৪:১৮ পিএম
ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। ছবি : সময়ের আলো
বরগুনার তালতলী উপজেলায় জ্বালানি তেলের (ডিজেল, পেট্রোল ও অক্টেন) তীব্র সংকটে বিপন্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার একর বোরো ধান ও রবিশস্য। সেচ পাম্প চালানোর মতো তেল না পেয়ে মাঠের পর মাঠ ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। দাদন ও ঋণের টাকায় বোনা কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন তেলের অভাবে ধ্বংসের মুখে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে বোরো ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। যে সময় ধানের ছড়ায় দুধ আসার কথা, ঠিক সেই সময় পানির অভাবে গাছগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঠের পাশে বসানো সেচ পাম্পগুলো জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। কৃষকরা তেলের ড্রাম হাতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ছুটছেন, কিন্তু মিলছে না প্রয়োজনীয় ডিজেল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় একমাত্র সরকারি অনুমোদিত জ্বালানি ডিলার পায়রা ট্রেডার্স চলতি মাসে মাত্র ১০ হাজার লিটার ডিজেল ও ২ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ পেয়েছেন। যদিও এ মাসে তার মাধ্যমে ৫৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ৫ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করার কথা রয়েছে, তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এই পরিমাণ একেবারেই নগণ্য এবং সংকট নিরসনে অপ্রতুল।

ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। ছবি : সময়ের আলো

ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। ছবি : সময়ের আলো


দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষি তেলের চাহিদা পূরণ করে আসছিলেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা, যারা দেশের বিভিন্ন স্থানের ডিলারদের কাছ থেকে তেল সংগ্রহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৯৫ হাজার লিটার ডিজেল, ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ৮ হাজার লিটার অক্টেনের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে মাসিক চাহিদা দাঁড়ায় কয়েক লাখ লিটার জ্বালানি। অথচ সরবরাহ সেই তুলনায় অনেক কম হওয়ায় কৃষি খাতে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে।


ভুক্তভোগী কৃষক মো. সেলিম মিয়া কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক ধার-দেনা করে বোরো চাষ করছি। এখন ধান বাঁচানোর সময়, অথচ প্রতিদিন ঘুরেও মেশিন চালানোর তেল পাচ্ছি না। চোখের সামনে জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তেল না পেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহারাজ হাওলাদার জানান, সরকারি ডিলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তিনি বলেন, আমাদের অন্য এলাকা থেকে তেল এনে বিক্রির অনুমতি দিলে কৃষকরা সরকারি দামেই তেল পাবে এবং সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, বোরো মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, তেলের ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের দাবি, আশ্বাস নয় অতি দ্রুত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের জীবনে নেমে আসবে চরম বিপর্যয়।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   শুকিয়ে যাচ্ছে  বোরো খেত  কৃষক  চোখে জল  সেচ  তেল  হাহাকার  বরগুনা  তালতলী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: