পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে একটি দীর্ঘ ও বিস্তৃত পোস্ট দিয়েছেন।
পোস্টের শুরুতেই তিনি লেখেন, পৃথিবী ঘুমিয়ে ছিল, ঘুম ভেঙ্গে দেখল ইরানের হাতে উ. কোরিযার ৫০০ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক (পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম) মিসাইল! পুরনো মধ্যপ্রাচ্যের মৃত্যু হয়েছে, জানাজা বাকি।
তিনি দাবি করেন, গত রাতে পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন ইরান এমন এক সামরিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেই মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন ইরানের বেসরকারি মুখপাত্র প্রফেসর মারান্দি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খবরটি পাওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র-এর নিরাপত্তা পরিষদ প্রায় ৯ ঘণ্টার বৈঠকে বসে।
পোস্টে বলা হয়, এই ঘটনা “ইররিভারসিবল” এবং বিশ্বের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য এটি এক ধরনের দুঃস্বপ্ন। ফারুক ওয়াসিফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এতদিন ইসরায়েল-এর সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে সেই ভারসাম্য ভেঙে গেছে। তার মতে, ইসরায়েলের তথাকথিত “স্যামসন অপশন” মোকাবেলার সক্ষমতাও এখন ইরানের হাতে চলে এসেছে।
তার পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, উত্তর কোরিয়া-এর তৈরি Hwasong-18 মডেলের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) — যা দেশটির সর্বাধুনিক সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তির — সেই ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে। এগুলোকে অত্যাধুনিক ও দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং বলা হয়, এগুলো ট্রাকভিত্তিক মোবাইল প্ল্যাটফর্মে বহনযোগ্য হওয়ায় সহজে লুকিয়ে রাখা সম্ভব।
পোস্টে দাবি করা হয়, ইরানের হাতে থাকা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সংখ্যার দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য, যেখানে “স্যাম চাচা” বা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০০ আইসিবিএম রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের অ্যারো-৩ ও যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এগুলোকে কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে বলা হয়।
ফারুক ওয়াসিফ আরও দাবি করেন, গত ১৪ মাস ধরে এই অস্ত্র স্থানান্তর গোপনে সম্পন্ন হয়েছে এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি বুঝতেই পারেনি। তার ভাষায়, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত নজরদারি ব্যবস্থাও এতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সলিড ফুয়েলচালিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক উৎক্ষেপণ সম্ভব এবং আকাশে ওঠার আগ পর্যন্ত খুব কম হিট সিগনেচার দেয়, ফলে শনাক্ত করা কঠিন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এগুলো রাডার, জিপিএস বা স্যাটেলাইট নয়, বরং নক্ষত্রের অবস্থান ব্যবহার করে গাইডেড হয়, যার ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং কার্যকর হয় না। এর নির্ভুলতার হার ১০০-১৫০ মিটারের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ইরানের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো দ্রুত কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া দাবি করা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চীন হয়ে মধ্য এশিয়ার পথ দিয়ে ইরানে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৪ মাস ধরে চলেছে।
শেষাংশে ফারুক ওয়াসিফ মন্তব্য করেন, গত রাতে পুরনো মধ্যপ্রাচ্যের মৃত্যু হয়েছে। জানাজা হবে যুদ্ধ শেষে। সিন্নি পাকাবে ইয়েমেন।
তবে উল্লেখ্য, পোস্টে উত্থাপিত এসব দাবি এখনো আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই হয়নি। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংবেদনশীল সামরিক তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
/ইউএমএইচ