ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বেসরকারি আহমেদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রাকিবা আক্তার (১৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ স্বজনরা রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল ভাঙচুর চালিয়ে বিক্ষোভ করে।
রাকিবা আক্তার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের মিজান মিয়ার মেয়ে।
প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রসব ব্যথা উঠলে রাকিবা আক্তারকে আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন। তাই তার স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অনুরোধ করে স্বজনরা। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিজার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে গাইনি চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামান তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।
প্রসূতির বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। ডাক্তাররা হঠাৎ করে সিজারের কথা বলেন। পরে আমার নাতি জন্ম নিলেও মেয়েকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। এরপর কুমিল্লা নেওয়ার কথা বলায় আমার সন্দেহ হয়। পরে ভিতরে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রসূতির মা রেহেনা আক্তার বলেন, আমরা নরমাল ডেলিভারির জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা ওটিতে নিয়ে ভুল চিকিৎসা করে মেরে ফেলছে।
জানা যায়, ঘটনার পর রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্বজনদের সঙ্গে দফা-রফার চেষ্টা করে। তবে মৃত্যুর দায় কেউ স্বীকার না করায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে রোববার সকালে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় এবং বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয়রা জানান, এই হাসপাতালে আগেও অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নবীনগর (সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই/এফআর