ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া তিনজনের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) মিটফোর্ড হাসপাতালে নিহতদের স্বজনদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল শনিবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে স্বজনরা তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করেন। নিহতরা হলেন— পটুয়াখালীর বাউফলের মঞ্জু বেগম (৩৬), মাদারীপুরের কালকিনির শাহীনুর বেগম (৩৫) এবং বরিশালের মুলাদীর মীম আক্তার (১৬)।
নিহত স্বজনদের অভিযোগ, আগুনের সময় কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকায় শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। তারা এই ঘটনাকে সাধারণ দুর্ঘটনা না বলে ‘পরিকল্পিত অবহেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কারখানার মালিককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, বাকি তিনজনের মরদেহ এখনো শনাক্ত না হওয়ায় সেগুলো মর্গের ফ্রিজে রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনদের দাবির প্রেক্ষিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল মিললেই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওমর ফারুক বলেন, ‘আগুনের ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার এবং তিনজনকে আহত অবস্থায় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আহত তিনজনের পরিবারকে চিকিৎসা বাবদ ১৫ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি যে মরদেহগুলো শনাক্ত হয়েছে তাদের পরিবারকে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার করে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে কদমতলী এলাকার গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রাণ হারান ছয় শ্রমিক।
সময়ের আলো/জোই