দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। গত ২৪ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা মধ্যম কানাইমাদারি আদর্শ পাড়া নতুন বাড়ির এই প্রধান সড়কটি বর্তমানে এলাকাবাসীর কাছে একপ্রকার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির কারণে ৩টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরকল ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগ রক্ষাকারী এই সড়কটির বিভিন্ন অংশ কাদাজলে বেহাল। কোথাও খালের ভাঙনে সড়কের অংশ বিলীন হয়ে গেছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্তে জমে আছে কাদা। ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় যুবক আজিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, শত শত পরিবারের জীবনযাত্রার প্রধান পথ। খালের ভাঙনে যেভাবে রাস্তাটি বিলীন হচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা নাছির উদ্দীন জানান, এই সড়ক দিয়েই কৃষকেরা আশপাশের ৩-৪টি বিলের ধান ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করেন। চন্দনাইশের মুন্দারেরচরের শাকসবজিও এই পথ দিয়েই বাজারে পৌঁছায়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেগম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন এলেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু ভোট শেষে আর কেউ খোঁজ রাখে না। বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই এলাকার হাজারো মানুষ এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাহাদুর সড়কের নাজুক অবস্থা স্বীকার করে বলেন, সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আমরা স্থানীয়দের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতা চাইব, যাতে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা যায়।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজিব হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আবেদন করলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেব। দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আরবিএন