চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূজপুরে এক যুবকের মৎস্য প্রজেক্ট থেকে মাছ, মাটি ও গাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, ৫ আগস্টের পর প্রতিপক্ষ বিএনপির ‘দলীয় প্রলেপ’ লাগিয়ে তার পৈতৃক সম্পত্তি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক চট্টগ্রাম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দীন মঈনু অভিযোগ করেন, গত ২৭ মার্চ দুপুরে প্রতিবেশী মইনুদ্দীন ননী ও ফজল করিম মাসুমের নেতৃত্বে ৮-১০ জন দুষ্কৃতকারী বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তার মালিকানাধীন মৎস্য প্রজেক্ট ও নাল জমিতে হামলা চালায়। এসময় তারা প্রজেক্টের মাছ, জমির মাটি এবং পাড়ের গাছ কেটে লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করে এবং পুরো পরিবারকে গুম করার হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, দলিলমূলে এই সম্পত্তি আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং বিএস খতিয়ানও আমাদের নামে। ৫ আগস্টের পর প্রতিপক্ষ বিএনপির তকমা লাগিয়ে জোরপূর্বক এসব দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. ফজল করিম মাসুম বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যমূলক দলীয় ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। আমরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমরা এলাকায় কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি, ভবিষ্যতে দেবো না। একথা এলাকার সবাই জানেন।’
এসব বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহির আজম চৌধুরী বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের এসব অনৈতিক ও অন্যায় কাজ করার সুযোগ নেই। কেউ সেটা করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এটি পারিবারিক কলহের জেরে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। অভিযুক্তরা এসব করেছে— এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এফআর