কল্পনা করুন—একজন প্রকৌশলী একটি জটিল সেতুর নকশা তৈরি করছেন, আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি এআই সফটওয়্যার সেই নকশার শক্তি, দুর্বলতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে দিচ্ছে। আবার একটি কারখানায় মেশিন নিজেই আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছে যে কয়েক দিনের মধ্যে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে এমন দৃশ্য আর কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ইতোমধ্যে প্রকৌশল খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বিশ্বজুড়ে প্রকৌশলীরা এখন নকশা বিশ্লেষণ, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জটিল সমস্যার সমাধানে এআই ব্যবহার করছেন। নির্মাণ প্রকল্পে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা, শিল্পকারখানায় মেশিনের কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা এবং বড় ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে কাজের গতি বাড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুলের শঙ্কাও কমে যাচ্ছে।
তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রসারের ফলে কিছু প্রচলিত চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি, তথ্য নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি শিক্ষায় এআই এবং ডেটা-ভিত্তিক দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের প্রকৌশলীরা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে দেশীয় পর্যায়ে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ও সমাধান তৈরি করা যায়। তৃতীয়ত, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রকৌশল খাতে এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অতএব, ভবিষ্যতের প্রকৌশল শুধু মানুষের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে না—মানব মেধা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ই আগামী দিনের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
লেখক : প্রকৌশলী
এফআর