ভোলা জেলার পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট (গোয়েন্দা শাখা) বিবি সাওদা (৩৭) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখা তাদের নারী কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে তার মুক্তির দাবিতে শহরের ওয়েস্টার্নপাড়ায় নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেছে।
এর আগে, গত রোববার রাতে ভোলা সদর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের আদর্শ একাডেমির রোডের ক্ষণিকালয় নামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই একই এলাকার আব্দুল হালিম বাবুলের স্ত্রী। পরে সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠায় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাইবার আইনের অপব্যবহার করে মানুষের বাকস্বাধীনতা দমন করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও, ভোলার এই গ্রেফতার সেই প্রত্যাশার পরিপন্থি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সাওদার তিন বছর বয়সী একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, যার দেখভালের জন্য মায়ের উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে অনুরোধ জানানো হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
এছাড়া দ্রুত জামায়াতের নারী কর্মী সাওদাকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এসময়, সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা আমির মাস্টার মুহাম্মদ জাকির হোসাইন, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গ্রেফতারের আগে সর্বশেষ বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি 'Sawoda Sumi'-তে দেওয়া পোস্টে লিখেছিলেন, আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তারা তো অনুমতি দিয়েছে। তাহলে দুই তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কেন ভারত থেকে তেল আনা লাগবে?
এছাড়া আরও অন্যান্য পোস্টেও জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছেন।
এ ঘটনায় মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করে, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডিতে রাষ্ট্র এবং সরকারি বিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার মোবাইলটি জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফেসবুক পোস্টের সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান ফেসবুকের ভিউ বৃদ্ধির জন্য তিনি সমসাময়িক এবং সরকার রাজনীতি, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সম্পর্কে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন।
এছাড়াও তিনি সাইবার সুরক্ষা নেট অধ্যাদেশ ২০২৫ এ শাস্তি যোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলেও জানানো হয়েছে।
তার মোবাইল ফোন ফেসবুক পোস্টসমূহ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ তাৎক্ষণিক সম্ভব না হওয়ায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রম অনুসরণ পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত তাকে হাজতে আটক রাখার জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ।
/ইউএমএইচ