প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম আপডেট: ০৭.০৪.২০২৬ ১২:৪৪ পিএম
সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি : সংগৃহীতদেশের জ্বালানি তেলের দাম বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এখনও অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, প্রতি মাসে মূল্য সমন্বয় পর্যালোচনা করা হয়, এবং আগামী মাসে দাম বাড়ানো হবে কি না তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীর ওপর বিধিনিষেধ আরোপে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এ কারণে তেলের অস্বাভাবিক মূল্য ওঠানামা দেখা দিয়েছে।
তবু, মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ডিজেল মজুদ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন, অকটেন মজুদ ১০ হাজার ৫০০ টন, এবং পেট্রোল ১৬ হাজার টন। এপ্রিলের মধ্যে আরও যথেষ্ট সরবরাহ আসবে। সরকারের এই উদ্যোগ নিশ্চিত করছে শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যাঘাত না ঘটানো।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো ইতোমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। পাকিস্তান ৫০% বৃদ্ধি করেছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপালেও দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তুলনায় বাংলাদেশ এখনো স্থিতিশীল মূল্য বজায় রেখেছে।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অবৈধ মজুত ও তেল পাচার রোধে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, ২,৪৫৬টি মামলা হয়েছে, ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৪০ লাখ লিটারের বেশি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, জেলা ভিত্তিক মনিটরিং টিম ও জুম অ্যাপসের মাধ্যমে দৈনিক পর্যবেক্ষণ। মন্ত্রী বলেন, দেশের খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের এই ব্যস্ত উদ্যোগ এবং দাম স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ভোক্তা ও শিল্পের স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এএডি/