লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ার বন্দিশালায় (গেমঘর) অমানবিক নির্যাতনে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের মো. জহিরুল আকন

2026-04-07T23:54:46+00:00
2026-04-07T23:54:46+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু
অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম 
মো. জহিরুল আকন। ছবি : সংগৃহীত
অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ার বন্দিশালায় (গেমঘর) অমানবিক নির্যাতনে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের মো. জহিরুল আকন (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আশেপাশের লোকজন ও আত্মীয় স্বজনরা নিহতের বাড়িতে ভিড় করছেন। এই ঘটনায় দালালদের শাস্তি ও লাশ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।

নিহত জহিরুল আকন ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের শামসুল হক আকনের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার ধুলোগ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বর ও এই গ্রামের তারক দাস নামে দুইজন দালাল অল্প টাকার বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে সাগর পথে ইতালি লোক পাঠান। এ কথা জেনে ওই দালালদের প্রলোভনে সাড়া দিয়ে জহিরুল আকন অবৈধ পথে ইতালি যেতে রাজি হন। তাই জহিরুল আকন প্রথমে ২৫ লাখ টাকা দেন ওই দালালদের কাছে। পরে জহিরুল আকনকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রায় পাঁচ মাস আগে লিবিয়া নিয়ে যায় দালালরা। তাকে লিবিয়া পৌঁছানোর পর নিয়ে যায় অন্ধকার এক বন্দিশালায় (লিবিয়ার বন্দিশালাকে মাদারীপুরের স্থানীয়রা গেমঘর বলে থাকেন)। সেখানে বসে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে ভিডিও কলে জহিরুলের পরিবারকে টাকা পাঠাতে বলতেন লিবিয়ার দালাল ও মাফিয়াচক্রের সদস্যরা। এই পর্যন্ত জহিরুল আকনের পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় ৪৫ লাখ টাকা নেয় দালাল তারক দাস ও জাকির মাতুব্বর। লাখ লাখ টাকা দেওয়ার পরও জহিরুলকে বাঁচাতে পারেনি তার পরিবার।

হঠাৎ দালালদের মাধ্যমে সোমবার রাতে খবর আসে জহিরুল মারা গেছে। এদিকে মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে তার স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তান, বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী। তাদের দাবি দালালরা নির্যাতন করে জহিরুলকে মেরে ফেলেছে।

এছাড়াও দালাল জাকিরের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার পথে একই উপজেলার মধ্য ধুলোগ্রামের আসলাম সৈয়দের ছেলে ইমামুল সৈয়দ নিখোঁজ রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহত জহিরুলের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, আমরা দালাল চক্রের হোতা জাকির মাতুব্বরের কাছে প্রথমে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। পরে লিবিয়ায় নিয়ে গেমঘরে রেখে আমার স্বামীকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হতো। ভিডিও কলে সেগুলো আমাদের দেখাতো। পরবর্তীতে আমরা জাকির ও তারকের কাছে মোট ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এরপরও দালালরা আমাদের কাছে আরও টাকা চান। কিন্তু আমরা সেই টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন করে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের নামে মামলা করব। এই ঘটনার বিচার চাই আমরা। তাছাড়া সরকারের কাছে দাবি জানাই, যাতে করে আমার স্বামীর লাশ দেশে আনা হোক।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত দালাল জাকির মাতুব্বর ও তারক দাস গা ঢাকা দিয়েছে। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দালাল তারক দাসের মা মিনতী দাস বলেন, আমার ছেলে তারক দাস শতাধিক লোক লিবিয়া দিয়ে ইতালিতে পাঠিয়েছে। তবে এই ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছু  জানিনা।


ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, জহিরুল আকন নিহতের ঘটনায় তার পরিবার মামলা দিলে তা নেয়া হবে। পরে এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটির কথা আমরা জেনেছি। পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে সবার সচেতন হতে হবে।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা  ইতালি যাত্রা  লিবিয়া  বন্দিশালা  মাদারীপুর  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: