মাদারীপুরের শিবচরে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে লিবিয়ায় পাচার করে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর মা ছালমা বেগম (৪৬) পাঁচজনকে আসামি করে মাদারীপুরের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বেকার থাকা সুমন খলিফাকে স্থানীয় কয়েকজন ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। প্রথমে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ১০ লাখ টাকা এবং ভিসা হলে বাকি টাকা পরিশোধের কথা ছিল।
২০২৫ সালের ১১ মে অভিযুক্তরা প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করে সুমনের পাসপোর্ট নিয়ে যান। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরও টাকা আদায় করা হয়। ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭১০ টাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একই দিনে আরও ১০ লাখের মতো টাকা জমা দেওয়া হয়। নগদ অর্থসহ মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ২১০ টাকায়।
২০২৫ সালের ১৩ জুলাই সুমনকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠানো হলেও তিন দিন পর পরিবার জানতে পারে, তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর চক্রটি আবার ১০ লাখ টাকা দাবি করে, যা পরিবার পরিশোধ করে। সুমন পরবর্তীতে ফোনে জানান, তাকে লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়েছে এবং সেখানে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
মামলার ভিত্তিতে শিবচর থানা-পুলিশ প্রধান আসামি মোতালেব খলিফা (৫৬) কে শিবচর বাজারের ৭১ সড়ক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সুমন খলিফাকে জীবিত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সময়ের আলো/আরবিএন