নওগাঁর পোরশায় লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেকনোলজিস্ট ছাড়াই কর্মচারীদের দিয়ে এক্স-রে পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। গত এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শরিফুল ইসলাম এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা যায়, নীতপুরে অবস্থিত ওই সেন্টারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আনবিক শক্তি কমিশনের কোন লাইসেন্স নেই। সাধারণ কক্ষে এক্স-রে করা হয়, যা বিকিরণ সুরক্ষা বজায় রাখতে সক্ষম নয়। হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় দালাল চক্র রোগীদের সেখানে নিয়ে যায়। ফলে ভুলভাল এক্স-রে রিপোর্টের কারণে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পায় না এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে।
কালাইবাড়ি গ্রামের এক গৃহবধু অভিযোগ করেন, বাম হাতের কবজির সমস্যা নিয়ে ৫০০ টাকায় এক্স-রে করান। রিপোর্ট ভুল দেখানো হয় এবং টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি।
পাশের পদ্ম (সাবেদা) ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আতিকুর রহমান বলেন, লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে করা হচ্ছে, যা আইনত বেআইনি।
লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। এক্স-রে পরিচালনার জন্য মাহাথির মাহমুদ নামের অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগও জানে।
বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অর্গানাইজেশন পোরশা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেন, আইন অনুযায়ী অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে পরিচালনা দন্ডনীয় অপরাধ। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসন নিয়ে অভিযানও চালানো হবে। অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্ট ছাড়া এক্স-রে করা হলে পরীক্ষা সঠিক হবে না এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
সময়ের আলো/আরবিএন