জানুন কেমন হবে আর্টেমিস–২ অবতরণের দমবন্ধ-করা মুহূর্ত

সময়ের আলো ডেস্ক

প্রযুক্তি

মহাকাশ অভিযান এখন আর শুধু কল্পকাহিনি নয়—বাস্তবের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। নাসার আর্টেমিস–২ মিশন সেই গল্পেরই নতুন পর্ব, এর মাধ্যমে মানুষ

2026-04-10T18:46:52+00:00
2026-04-10T18:46:52+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রযুক্তি
জানুন কেমন হবে আর্টেমিস–২ অবতরণের দমবন্ধ-করা মুহূর্ত
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম 
মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ, জেরেমি হ্যানসেন, কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এবং পাইলট ভিক্টর গ্লোভার পৃথিবীতে ফেরার পথে ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতরে তাদের শূন্য-গুরুত্বের (জিরো গ্র্যাভিটি) নির্দেশক ‘রাইজ’-এর সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবি তোলার জন্য কিছুক্ষণ থামেন। ছবি : গার্ডিয়ান
মহাকাশ অভিযান এখন আর শুধু কল্পকাহিনি নয়—বাস্তবের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। নাসার আর্টেমিস–২ মিশন সেই গল্পেরই নতুন পর্ব, এর মাধ্যমে মানুষ আবারও  প্রমাণ করেছে চাঁদে অভিযান চালিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরা এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। এই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো পৃথিবীতে ফিরে আসা বা “রিএন্ট্রি” অর্থাৎ নিরাপদ অবতরণ।  

ধাপে ধাপে পৃথিবীর কক্ষে আর্টেমিস-২

এই অভিযানে ব্যবহৃত মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’ পৃথিবীতে ফেরার সময় প্রথমে তার ইউরোপীয় সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা হয়ে যাবে। তখন এর গতি থাকবে ঘণ্টায় প্রায় ২৪,৮৫৫ মাইল। আলাদা হওয়ার পর সার্ভিস মডিউলটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরে পুড়ে যাবে। 

এরপর শুরু হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ। এই সময় ওরিয়ন ক্যাপসুল নিজের অবস্থান ঠিক করতে ইঞ্জিন চালু করে এমনভাবে ঘুরবে, যাতে শক্তিশালী হিটশিল্ড সামনে থাকে। এই শিল্ড প্রায় ৩,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপ থেকে ভেতরের নভোচারীদের রক্ষা করবে। 

বায়ুমণ্ডলের ভেতরে ঢোকার পর মহাকাশযানের গতি দ্রুত কমতে শুরু করবে। ধীরে ধীরে প্যারাশুট খুলে দেওয়া হবে, যাতে এর গতি কমে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ মাইলে নেমে আসে। এরপর আরও ধীর হয়ে এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে, যাকে বলা হয় স্প্ল্যাশডাউন। তখন এর গতি থাকবে ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল। 

এই অবতরণের জন্য নির্ধারিত এলাকা রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূল থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ মাইল দূরে। অবতরণের পরপরই উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যাবে এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হবে। 

পুরো যাত্রাটিই অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ—নভোচারীদের ঘুম থেকে জাগানো, কেবিন প্রস্তুত, গতিপথ সংশোধন, মডিউল বিচ্ছিন্নকরণ, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ এবং শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে অবতরণ। অবতরণের পর নাসা জনসন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। 

সব মিলিয়ে আর্টেমিস–২ মিশন শুধু একটি মহাকাশ যাত্রা নয়, বরং মানব প্রযুক্তি এবং সাহসিকতার এক বড় উদাহরণ, যা ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের আরও বড় অভিযানের পথ খুলে দেবে।


/ইউএমএইচ

  বিষয়:   আর্টেমিস–২ 


Advertisement
Loading...
Loading...
প্রযুক্তি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: