স্মার্টফোনে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করার সময় হঠাৎ ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেলে বেশ বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওয়েবসাইট খুলতে দেরি, ভিডিওতে বারবার বাফারিং কিংবা মেসেজ পাঠাতে বেশি সময় লাগা, এসব সমস্যার সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। অথচ ফোনের পর্দায় নেটওয়ার্কের সিগন্যাল ঠিকই দেখা যাচ্ছে।
এমন অবস্থায় ফোনের এরোপ্লেন মোড কয়েক সেকেন্ড চালু রেখে আবার বন্ধ করে দেখা যেতে পারে। খুব সাধারণ এই কৌশলটি অনেক সময় সাময়িক নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান করতে পারে।
নেটওয়ার্ক ধীর হওয়ার কারণ কী?
মোবাইল ইন্টারনেটের গতি শুধু ফোনে কতটি নেটওয়ার্ক বার দেখা যাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে না। একজন ব্যবহারকারী চলাফেরা করার সময় তার ফোন এক মোবাইল টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে সংযোগ পরিবর্তন করে।
কখনো ফোন আগের টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখে, যদিও কাছাকাছি অন্য কোনো টাওয়ার থেকে তুলনামূলক ভালো সিগন্যাল পাওয়া সম্ভব। ফলে নেটওয়ার্কের সংকেত দেখা গেলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ধীর হয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকা, চলন্ত অবস্থায় কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ থাকলে এমন সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।
কীভাবে কাজ করে এরোপ্লেন মোড?
এরোপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আগে যে টাওয়ার বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে ফোনটি যুক্ত ছিল, সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
কয়েক সেকেন্ড পর এরোপ্লেন মোড বন্ধ করলে ফোন আবার আশপাশের মোবাইল নেটওয়ার্ক খুঁজে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করে। এতে আগের সংযোগে কোনো সমস্যা থাকলে সেটি কেটে গিয়ে তুলনামূলক ভালো নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ফলে অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি আবার স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
এতে কি সত্যিই ইন্টারনেটের গতি বাড়ে?
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, এরোপ্লেন মোড চালু ও বন্ধ করলে ফোনের ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ সক্ষমতা বেড়ে যায় না। বরং এটি মোবাইল নেটওয়ার্কের সংযোগটি নতুন করে স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।
যদি ইন্টারনেট ধীর হওয়ার কারণ হয় ফোনের পুরোনো, দুর্বল বা সমস্যাযুক্ত নেটওয়ার্ক সংযোগ, তাহলে এরোপ্লেন মোড ব্যবহার করার পর গতি বাড়ার পার্থক্য চোখে পড়তে পারে।
তবে সমস্যাটি যদি মোবাইল টাওয়ারে অতিরিক্ত চাপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, ডাটা প্যাকের সীমা শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা অপারেটরের নিজস্ব নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে হয়, তাহলে এই কৌশল কাজে নাও আসতে পারে।
কতক্ষণ চালু রাখবেন?
মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য এরোপ্লেন মোড চালু করে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ না করে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করা ভালো। এতে ফোনের আগের নেটওয়ার্ক সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার এবং পরে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ থাকে।
তাই স্মার্টফোনে হঠাৎ ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেলে ফোন বন্ধ বা পুনরায় চালু করার আগে কয়েক সেকেন্ডের জন্য এরোপ্লেন মোড চালু করে দেখতে পারেন। এতে প্রতিবার ইন্টারনেটের গতি বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে সাময়িক নেটওয়ার্ক সংযোগের সমস্যা হলে এটি দ্রুত ও সহজ একটি সমাধান হতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ