গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। হামলায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং তিনি এক বা উভয় পা হারিয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে। এই হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং স্ত্রীসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন।
গত ৮ মার্চ মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি মানসিকভাবে বেশ সজাগ এবং অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সরাসরি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি একটি পা হারিয়েছেন। গত ১৩ মার্চ মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, খামেনি আহত এবং সম্ভবত তার চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাকে ‘জানবাজ’ (যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত ব্যক্তি) হিসেবে বর্ণনা করলেও তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
দীর্ঘ সময় জনসম্মুখে না আসায় ইরানিদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মোজতবা কোথায়?’ লিখে অনেককেই প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী এক বা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার ছবি প্রকাশ করা হতে পারে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি জনসম্মুখেও আসতে পারেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনি পদের উত্তরাধিকারী হলেও তার বাবার মতো একক নিয়ন্ত্রণ এখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, মোজতবা এখন কেবল একটি কণ্ঠস্বর, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এখনো একক শক্তি নন। যুদ্ধের এই সময়ে ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’ (আইআরজিসি) কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/কহু