বাংলা নববর্ষ বরণে ব্যস্ত চাঁদপুরের মৃৎশিল্পীরা

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর

সারাদেশ

সারা বছর তেমন চাহিদা না থাকলেও বাংলা নববর্ষ এলেই প্রাণ ফিরে পায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বৈশাখী মেলার

2026-04-12T17:35:02+00:00
2026-04-12T17:35:02+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
বাংলা নববর্ষ বরণে ব্যস্ত চাঁদপুরের মৃৎশিল্পীরা
শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম 
মৃৎশিল্পী ঘোড়ায় আঁকছেন তার নিপুণ হাতে। ছবি : সময়ের আলো
সারা বছর তেমন চাহিদা না থাকলেও বাংলা নববর্ষ এলেই প্রাণ ফিরে পায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বৈশাখী মেলার প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া, শোল্লা ও মানুরী গ্রামের মৃৎশিল্পীরা।

উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরের আঙিনা জুড়ে নারী-পুরুষ সবাই কাজের মধ্যে ডুবে আছেন। কেউ মাটি দিয়ে গড়ছেন পুতুল, কেউ বানাচ্ছেন হাতি-ঘোড়া, আবার কেউ তৈরি করছেন হাঁড়ি-পাতিল। রোদে শুকানো, আগুনে পোড়ানো আর নিপুণ তুলির আঁচড়ে রঙিন করে তোলা সব মিলিয়ে চলছে এক ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। এসব পণ্য বৈশাখী মেলায় বিক্রির আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

মৃৎশিল্পী নয়ন পাল, জবা পাল, সেটু পাল ও অর্পিতা পাল জানান, সারা বছরই তারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও নববর্ষের সময় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এ সময় বেচাকেনা ভালো হলে বছরের অন্য সময়ের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।


একই গ্রামের মিন্টু পাল, ঝন্টু পাল ও বিকাশ পাল বলেন, পৈতৃক পেশা টিকিয়ে রাখতে তারা এখনও এই শিল্প আঁকড়ে ধরে আছেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই ইতোমধ্যে পেশা পরিবর্তন করেছেন। তারা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

শোল্লা এলাকার মৃৎশিল্পী মিঠু পাল বলেন, বাজারে প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে মাটির জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। অথচ প্লাস্টিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর, সেখানে মাটির পণ্য সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত। তাই এ শিল্প রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা জরুরি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে কিছু মৃৎশিল্পী পরিবারকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়া বলেন, মৃৎশিল্পীদের জন্য আলাদা কোনো প্রণোদনা বর্তমানে নেই। তবে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   বাংলা নববর্ষ  বরণ  চাঁদপুর  মৃৎশিল্পী  চাঁদপুর 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: