বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, ম্রো, খিয়াং, খুমি ও বমসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তুলে ধরেছেন পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অনন্য মিলনমেলা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বান্দরবানের রাজার মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এতে উদ্বোধন করেন ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী এমপি।
বর্ণিল সাজ ও গানের তালে তালে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে গিয়ে সমবেত হয়।
বান্দরবান জেলা উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব চলবে ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। চারদিনব্যাপী এ আয়োজনের কর্মসূচিতে রয়েছে শোভাযাত্রা, বয়োজ্যেষ্ঠদের পূজা, বুদ্ধস্নান, পিঠা উৎসব, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, তৈলাক্ত বাঁশে চড়া এবং মৈত্রী পানি বর্ষণ (জলকেলি) ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া তরুণী মা এ সা মারমা বলেন, আমরা প্রতিবছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সাংগ্রাই মানেই আনন্দ আর মেলবন্ধন। আজ একসাথে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।
অন্য অংশগ্রহণকারী রিমকি চাকমা বলেন, বান্দরবানে বাঙালিসহ ১২টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। এই জেলার মতো বিচিত্র অন্য কোথাও নেই। আজকের শোভাযাত্রা সেই মিলবন্ধনেরই প্রতিফলন।
উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চথুইপ্রু জানান, শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বুদ্ধস্নান, পিঠা উৎসব, মৈত্রী পানি বর্ষণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এই উৎসব নিজ নিজ নামে উদযাপন করে থাকেন। মারমারা ‘সাংগ্রাই’, চাকমারা ‘বিজু’, ত্রিপুরারা ‘বৈসু’, তঞ্চঙ্গ্যারা ‘বিষু’ এবং ম্রোরা ‘চাংক্রান’ বলে থাকে।
সময়ের আলো/জোই