মঠখোলায় বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা

চাঁদপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

চাঁদপুরের সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী মঠখোলার বৈশাখী মেলা। শত বছরেরও বেশি সময় আগে শিব গাছ তলার শিব পূজারি শিব্বিরাদের উদ্যোগে

2026-04-13T17:44:39+00:00
2026-04-13T17:44:39+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
মঠখোলায় বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম 
মঠখোলায় বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। ছবি: সময়ের আলো
চাঁদপুরের সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী মঠখোলার বৈশাখী মেলা। শত বছরেরও বেশি সময় আগে শিব গাছ তলার শিব পূজারি শিব্বিরাদের উদ্যোগে এ মেলার যাত্রা শুরু। তবে আজও একই ঐতিহ্য আর আবেগ নিয়ে মেলার আয়োজন টিকে আছে। 

প্রতি বছরের মতো এবারও চৈত্র মাসের শেষ দিনে, অর্থাৎ বাংলা নববর্ষের আগের দিন সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে থেকে শুরু হয়ে ঐতিহ্যবাহী মেলার কার্যক্রম চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এমন আয়োজন ঘিরে চাঁদপুর সদরের শহরতলির মঠখোলা খলিসাডুলী এলাকায় সকাল থেকেই মেলার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। 

মেলার প্রবেশমুখ থেকেই চোখে পড়ে উৎসবের রঙিন চিত্র। খলিসাডুলী সড়কের দুই পাশজুড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ছোট ছোট মাদুর বিছিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন তাদের অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে রয়েছে নানা রকম গ্রামীণ ঐতিহ্যের পণ্য, যা বৈশাখী মেলার প্রাণ।

সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, বাঁশের তৈরি বাঁশি, ঢোল, রঙিন বেলুন, আর মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া, পাখি ও ফুলসহ অসংখ্য খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানগুলো। প্রতিটি পণ্যে যেন ফুটে উঠেছে বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়া। শিশু-কিশোরদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এসব খেলনা, আর বড়রাও ফিরে যান শৈশবের স্মৃতিতে।

শুধু কেনাকাটাই নয়, মেলাকে ঘিরে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষজন মেলার প্রাণচাঞ্চল্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কেউ কিনছেন শখের জিনিস, কেউবা শুধু মেলার আনন্দ উপভোগ করছেন।

মঠখোলা এলাকার বাসিন্দা ও মো. সবুজ ও বিপুন চন্দ্র দাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই মেলায় আসি। আগে বাবার হাত ধরে আসতাম, এখন নিজেই আসি। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু এই মেলার আনন্দ আগের মতোই আছে।


মেলায় আসা গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, এখানে আসলে গ্রামের একটা পরিবেশ পাওয়া যায়। আমার বাচ্চারা মাটির খেলনা খুব পছন্দ করে। তাই প্রতিবছরই তাদের নিয়ে এখানে আসি।

কলেজ শিক্ষার্থী সুমন হোসেন বলেন, এই মেলাটা আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ। এখানে আসলে পুরনো দিনের ঐতিহ্য চোখে পড়ে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে অনেক ভালো লাগছে।

মেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে মাটির খেলনা বিক্রি করছেন সম্পদ পাল। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে এই মেলায় আসতাম। তখন বাবাই দোকান দিতেন, এখন আমি নিজেই দিচ্ছি। আগের মতো বিক্রি না হলেও এই মেলার প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই প্রতিবছর আসি।

আরেক ব্যবসায়ী হুমায়ুন বলেন, এই মেলাটা একদিনের মেলা হলেও খুব জমজমাট। তবে আগে মাটির ও বাঁশের জিনিসের চাহিদা অনেক বেশি ছিল। এখন প্লাস্টিকের কারণে কিছুটা কমেছে। তারপরও যারা ঐতিহ্য ভালোবাসে, তারা ঠিকই এসব জিনিস কেনেন।

এফআর


  বিষয়:   চাঁদপুর  মঠখোলা  ঐতিহ্যবাহী  বৈশাখী মেলা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: