লিবিয়া ও কারাবাখের মতো ইসরায়েলেও তুর্কি বাহিনী প্রবেশ করতে পারে- প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এরদোয়ানের এই সামরিক হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলের হেরিটেজ মন্ত্রী আমিচাই ইলিয়াহু তুরস্কের সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) ইস্তাম্বুলে এক সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েল যে বর্বরতা চালাচ্ছে, তা বন্ধ করতে আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। আমরা যেভাবে কারাবাখ ও লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলাম, তাদের (ইসরায়েল) ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিতে পারি। আমাদের বাধা দেওয়ার মতো কেউ নেই।
এরদোয়ানের মন্তব্যের জবাবে ইসরায়েলি মন্ত্রী আমিচাই ইলিয়াহু তাকে ‘উচ্চাভিলাষী একনায়ক’ ও ‘ভণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, তুরস্ক উত্তর সাইপ্রাস দখল করে রেখেছে এবং কুর্দিদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়, তাদের মুখে নৈতিকতার কথা মানায় না। এরদোয়ান নিজেকে অটোমান সুলতান মনে করলেও তিনি আসলে এক ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতির দেশের স্বৈরাচার মাত্র। ইলিয়াহু আরও জানান, তিনি ইসরায়েলি সরকারের কাছে তুরস্কের সাথে স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্নের প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।
তর্কযুদ্ধের মধ্যেই ইলিয়াহু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি এআই-সম্পাদিত ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু টেম্পল মাউন্টে ইসরায়েলের পতাকা ওড়াচ্ছেন এবং এরদোয়ান তার পায়ে নতজানু হয়ে আছেন। এই ছবি তুর্কি মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে গত শুক্রবার তুরস্কের একটি আদালতের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজাগামী ‘সুমুদ’ ত্রাণবহরে ইসরায়েলি হামলার দায়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজসহ ৩৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ইস্তাম্বুল। ওই ত্রাণবহরে গ্রেটা থুনবার্গের মতো আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীরাও ছিলেন।
তুর্কি আদালতের এই পদক্ষেপের পর ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির অত্যন্ত অশালীন ভাষায় এরদোয়ানকে আক্রমণ করেন। এর জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘বর্তমান সময়ের হিটলার’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
/কহু