পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য টানা চারবার ছুটি নেওয়া ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর উন্নয়ন শাখা-২ এর ডেপুটি ম্যানেজার (অর্থ) মো. আবু কায়সার ৫ম বারের মতো চলতি বছরও হজ পালনের জন্য ছুটি আবেদন করেন। তবে ছুটি না পেয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উপসচিবকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব আইডি থেকে হুমকি ও অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। এসব আইডির ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মো. আবু কায়সার পরপর তিন বছর মূল হজ এবং এক বছর ওমরাহ পালন করেছেন। ২০২২ সালে তিনি ওমরাহ পালন করেন এবং ২০২৩ সাল থেকে টানা তিনবার হজ পালন করেন। চলতি বছরও তিনি হজ পালনের জন্য আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, হজ পালনের আড়ালে তিনি অন্যদের হজে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। এ বছর একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৪ জনকে হজে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। এ বিষয়ে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌদি সরকার প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করে দেয়। ফলে একই ব্যক্তি বারবার হজে গেলে অন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন, যা সরকারি আদেশ (জিও) হিসেবে জারি করা হয়।
মো. আবু কায়সার তার ছোট বোনের মাহরাম হিসেবে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৪৫ দিনের ছুটির আবেদন করেন। ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করে বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠালেও গত ১৫ মার্চ তার আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়, পূর্বে একাধিকবার হজ পালনের কারণে একই উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
এরপর তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে সরাসরি আবেদন করেন, যা নিয়মবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ছুটির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর থেকেই তিনি তদবির শুরু করেন এবং তার আচরণ ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে মো. আবু কায়সারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেন বলেন, মো. আবু কায়সার এর আগে চারবার হজ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে বিশেষ বিবেচনায় তাকে অনুমতি দেওয়া হলেও তখনই জানিয়ে দেওয়া হয়, পরবর্তীতে আর জিও দেওয়া হবে না। এরপরও তিনি পুনরায় আবেদন করলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, আবু কায়সার প্রতিবারই কোনো না কোনো হজযাত্রী দলের গাইড হিসেবে গিয়েছেন এবং বিনিময়ে বিনা খরচে হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, সীমিত কোটার কারণে অনেক আবেদনকারী দুই-তিনবার চেষ্টা করার পর হজ পালনের সুযোগ পান। এমন পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি বারবার হজে গেলে অন্যদের সুযোগ কমে যায়। তবে একজন সরকারি চাকরিজীবী কতবার হজ পালন করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই বলেও জানান তিনি।
আরবিএন