মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে। তবে কড়াকড়ির মধ্যেও পুরোপুরি থেমে থাকেনি জাহাজ চলাচল- বরং সীমিত পরিসরে তা অব্যাহত রয়েছে।
বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই অবরোধ জারি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, তারা জানিয়েছে- ইরানের বন্দরমুখী বা সেখান থেকে আসা যেকোনো জাহাজই এর আওতায় পড়বে। যদিও তাদের দাবি, অবরোধের শুরুর দিকে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল এবং কয়েকটি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। তবে স্বাধীনভাবে এসব তথ্য পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘স্পুফিং’ কৌশল। অনেক জাহাজ তাদের অবস্থান গোপন করতে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখছে বা ভুয়া সংকেত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরান-সম্পৃক্ত ট্যাংকারগুলোর ক্ষেত্রে এটি বেশ পরিচিত কৌশল।
আরও পড়ুন
এদিকে এই উত্তেজনার পেছনে সরাসরি দায় দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে এমন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। একদিকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে শত শত জাহাজ। বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রায় ৮০০ জাহাজ এখনও এই অঞ্চলে অপেক্ষমাণ, যার অধিকাংশই পণ্যবোঝাই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক নয়- বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ, উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশই নির্ভর করে এই সংকীর্ণ কিন্তু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির ওপর।
এএডি/