হপার পোকার আক্রমণে চুয়াডাঙ্গায় আম বাগানগুলোতে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। বেশিরভাগ বাগানে একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। গাছগুলোতে আমের পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে বোটা। আর গাছের নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে গুটিগুলো। হাতে গোনা কিছু বাগানে অল্প আম থাকলের সেগুলো তাপদাহের কারণে ঝরে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাগান মালিকরা।
এ মৌসুমে বাগান মালিকদের লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে, ব্যাহত হবে আমের উৎপাদন। চুয়াডাঙ্গার আম দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বেশি দামেও মিলবে না এবার পাকা আম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আম বাগানে কীটনাশক স্প্রে ও পরিচর্যা করেও কোনো সুফল মিলছে না।
এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কম আম উৎপাদন হবে। ১২২ কোটি টাকা বাজারমূল্য ধরা হলেও তার অর্ধেক টাকায় বিক্রি হবে না। যার ফলে বাগান মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বেশি দাম দিয়ে আম কিনে খেতে হবে সাধারণ মানুষদের।
আমের গুটি আসার পর বাগানে হপার পোকায় ভরে যায়। হপার পোকা আমের গুটি নিচের দিকে ছিদ্র করে। এরপর বোটা থেকে ঝরে পড়তে শুরু করে। হপার পোকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এ মৌসুমে। পোকা দমনে বাগানে কীটনাশক স্প্রে করেও দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। বাগানের গাছ থেকে আমের গুটি ঝরে পড়ছে নিচে। গাছে আম না থাকলেও বোটাগুলো দৃশ্যমান রয়েছে। বাগানে আম না থাকায় আর বাগানে যাচ্ছেন না।
১০ এপ্রিল ভোরে অসময়ে গরমের মধ্য গুঁড়িগুঁড়ি কুয়াশা ঝড়লেও আমের ক্ষতি হয়। আম বাগান মালিক হাসান জানান, আম বাগান নিয়ে এ বছর আশবাদী ছিলাম। আমের গুটিগুলো বড় হওয়ার পর কুয়াশার কারণে পুড়ে ও ঝরে পড়ে। বাগানের ৮০ ভাগ আমের গুটি এ পর্যন্ত নষ্ট হয়েছে। লিজ নেওয়া বাগানের টাকা আগেই পরিশোধ করতে হয়েছে। সে বাগানগুলোতে বোটা ছাড়া গাছে আর কিছু নেই।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার বলেন, এ বছর বাগানে যেভাবে মুকুল এসেছিল তা বলে বোঝানো যাবে না। আমরা আশাবাদী ছিলাম আমের গুটি এত পরিমাণ ছিল, যাতে ডাল ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। ভেবেছিলাম লাভবান হব কিন্তু হঠাৎ করে গরমে আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ও হপার পোকার আক্রমণ বেশি থাকায় আমার গুটিগুলো ঝরে পড়ে যায়। হপার পোকা নিয়ন্ত্রণে বাগানে কীটনাশক স্প্রে করেও দমন করা সম্ভব হয়নি। বাগান মালিকদের মাথায় হাত, কারণ তারা ধার দেনা ও ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাগান লিজ এবং বাগানে খরচ করেছিল। বাকি আম টিকিয়ে রাখতে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, হপার পোকার আক্রমণ রয়েছে আম বাগানে। বাগান ও গাছের গোড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নিয়মিত বাগানে সেচ দিতে হবে। তারা নিয়মিত বাগানে বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে পোকা দমন সম্ভব হবে। আমের গুটিগুলো বড় হচ্ছে। হরমন জাতীয় স্প্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যবহার করলে আমের ক্ষতি হবে।
এফআর