বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণ করায় শ্মশান থেকে সুব্রত পোদ্দার কানু ওরফে কাজী সোহাগ নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনার খবর পেয়ে পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়রা জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দারের ছেলে সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩) প্রায় ২১ বছর আগে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ নাম রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে (৯) বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাই রসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে সোহাগের মৃত্যু হয়। এ আশ্রমে তার মা রিতা রানি পোদ্দার নিয়মিত আসা যাওয়া করেন। এ অবস্থায় সোহাগের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে মোল্লাহাট উপজেলার উত্তর আমবাড়ী শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য চিতায় তোলা হয়।
এরই মধ্যে খবর পেয়ে শ্মশানঘাটে এসে মৃতের স্ত্রী ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া সন্তান তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তখন মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কবর স্থানে দাফনের দাবি করে তারা। তখন উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নিহতের মায়ের দাবি, তার ছেলে জন্মগত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, সেই বিবেচনায় দাহর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, মৃত্যু নিয়ে তার স্ত্রী অভিযোগ তোলায় মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই।
সময়ের আলো/জোই