অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর সহিংসতার চিত্র প্রচ্ছদে তুলে ধরায় ইতালীয় সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন 'ল’এস্প্রেসো'র ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ইসরায়েল। পত্রিকাটি গত ১০ এপ্রিল তাদের বিশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ করে, যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘ল’আবুজো’ (অবিচার)।
কী আছে সেই প্রচ্ছদে?
২০২৫ সালের অক্টোবরে হেব্রনের পশ্চিমে ইধনা গ্রামে জলপাই সংগ্রহের সময় ছবিটি তোলা হয়। এতে দেখা যায়, সামরিক পোশাক পরা এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী অত্যন্ত অবজ্ঞার হাসি নিয়ে তার মোবাইল ফোনে এক বিষণ্ণ ফিলিস্তিনি নারীর ছবি তুলছেন। ল’এস্প্রেসো তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, সেই ব্যক্তির মুখের অমানবিক বিদ্রূপাত্মক হাসিটিই মূলত পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতির নির্মম বাস্তবতা।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের প্রতিবাদ
এই প্রচ্ছদ প্রকাশের পর ইতালিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জোনাথন পেলেড তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি একে ‘কারসাজিপূর্ণ সাংবাদিকতা’ বলে আখ্যা দেন।
পেলেড বলেন, এই ছবি ইসরায়েলের জটিল বাস্তবতাকে বিকৃত করে এবং সমাজে ঘৃণা ও কুসংস্কার ছড়ায়।
এদিকে, ইসরায়েল সমর্থক অনেক নেটিজেন দাবি করেছেন, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
আলোকচিত্রীর জবাব
ছবিটি ভুয়া বলে ওঠা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন এর আলোকচিত্রী পিয়েত্রো মাস্তুরজো। তিনি জানান, গত বছরের ১২ অক্টোবর ইধনা গ্রামে অলিভ সংগ্রহের উৎসবের দিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মাস্তুরজো বলেন, সেদিন ফিলিস্তিনিদের নিজের খেতের জলপাই সংগ্রহে বাধা দিতে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী ও মুখ ঢাকা সৈন্যরা হানা দেয়। ছবিতে থাকা ওই ব্যক্তিটি ফিলিস্তিনিদের পশুর মতো বিদ্রূপ করছিলেন এবং সেই বিকৃত মানসিকতার মুহূর্তটিই আমি ক্যামেরাবন্দি করেছি।
প্রতিবেদনের নেপথ্যে
আলোচিত এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ইতালীয়-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখক আলা আল সাইদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচ্ছদটি বিশ্ব দরবারে পশ্চিম তীরের দখলদারিত্বের নতুন এক অমানবিক দিক উন্মোচন করেছে, যা সহ্য করতে পারছে না ইসরায়েল প্রশাসন।
আরবিএন