চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল বিমানবাহী রণতরীতে (সুপারক্যারিয়ার) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) 'ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার' (সিভিএন-৬৯) নামের ওই যুদ্ধজাহাজে আগুন লাগে। এতে তিন নাবিক আহত হয়েছেন।
মার্কিন নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, আহত নাবিকদের জাহাজে রেখেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে নিজেদের কাজেও ফিরেছেন তারা।
ভার্জিনিয়ার নরফোক নেভাল স্টেশনে রক্ষণাবেক্ষণের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার’-এ একটি ছোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঠিক জাহাজের কোন অংশে আগুন লেগেছিল তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে দ্রুতই জাহাজে থাকা নাবিক ও নরফোক নেভি শিপইয়ার্ডের কর্মীরা নিজেদের প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ঘটনার সময় জাহাজটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। নৌবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, বড় যুদ্ধজাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পর সমুদ্র অভিযান থেকে সরিয়ে ডকইয়ার্ডে আনা হয়, যেখানে ইঞ্জিন, অস্ত্র ব্যবস্থা, নাবিকদের আবাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে উন্নয়ন ও মেরামত করা হয়। এই কাজের অংশ হিসেবেই প্রায় ১৬ মাস ধরে জাহাজটি নরফোকে অবস্থান করছিল।
ঘটনার সময় তিনজন নাবিক সামান্য আহত হন, তবে নৌবাহিনীর চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে তারা সুস্থ হয়ে আবার কাজে যোগ দেন বলে জানানো হয়েছে।
নৌবাহিনীর বিবৃতিতে এটিকে একটি “ছোট ও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা অগ্নিকাণ্ড” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, মার্কিন নৌবাহিনীর আরেকটি আধুনিক রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’-এও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল এবং জাহাজটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সেই ঘটনাটি নৌবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছিল।
‘ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার’ হলো নিমিৎজ-শ্রেণির একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সুপারক্যারিয়ার, যা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় এ ধরনের রণতরী। ১৯৭০-এর দশকে নির্মিত এই জাহাজটি ১৯৭৭ সালে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয় এবং এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে এসেছে। নাবিকদের কাছে এটি ‘আইক’ নামে পরিচিত।
ইতিহাসে এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক বড় অভিযানে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ইরানে মার্কিন জিম্মি উদ্ধারের অপারেশন, ইরাক যুদ্ধের সময় ‘ডেজার্ট শিল্ড’ ও ‘ডেজার্ট স্টর্ম’ অভিযান অন্যতম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি লোহিত সাগর অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছে, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণের পর বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চললেও এই অগ্নিকাণ্ড জাহাজটির কাজের সময়সূচিতে কোনো বড় প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে নৌবাহিনী নিশ্চিত করেনি। ভবিষ্যতে এটি আবারও মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য অঞ্চলে অভিযানে ফিরে যেতে পারে বলেও সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
/ইউএমএইচ