পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া অগ্নিদগ্ধ পেট্রোল পাম্পের সহকারী ব্যবস্থা মনতোষ নাথের (৪৫)অবশেষে মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। এর আগে, ১৪ এপ্রিল রাতে বসতঘরের সামনে মোটরসাইকেলের প্লাগ পরিষ্কার করতে গিয়ে অসাবধানতায় অগ্নিদগ্ধ হন তিনি।
তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন ইমামনগর গ্রামের হরিমোহন নাথের ছেলে। পেশায় নাজিরহাট জনতা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনতা পেট্রোল পাম্পে চাকরির সুবাদে গভীর রাতে সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে পেট্রোল-অকটেনের মজুদ করতেন। পরে সুযোগ বুঝে বাড়ি থেকেই অতিরিক্ত দামে ক্রেতাদের এসব তেল সরবরাহ করতেন। ঘটনার দিন অনুরূপ তেল সরবরাহ করতে গিয়েই তিনি মূলত অগ্নিদগ্ধ হন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে বলেন, প্রতিদিনই তিনি তেলের মজুদ করতেন এবং রাতে নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন। যা এলাকায় সবাই জানেন তবে মুখ খোলে না।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে ওই পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. তৌহিদুল আলম বলেন, আমার জানামতে তিনি কখনো এখান থেকে চোরাই পথে তেল নেননি। হয়ত নিজের ব্যবহারের জন্য ৪-৫ লিটার নিতে পারেন। বেশি পরিমাণে দিলে প্রশাসনকে আমাদের কৈফিয়ত দিতে হয়।
মনোতোষের স্বজনরা জানিয়েছেন, সেদিন বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। ঘুটঘুটে রাতের অন্ধকারে বসতঘরের সামনে মোটরসাইকেলে সমস্যার কারণে প্লাগ পরিষ্কার করে তেল ঢুকাচ্ছিলেন তিনি। পাশেই ছিলেন তার স্ত্রীসহ চার বছর বয়সি সন্তান। ওই সময় চেরাগ বাতির আগুনের সঙ্গে দাহ্য তেলে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই মনতোষ অগ্নিদগ্ধ হন।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে একদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার করে। সেখানে তিনদিন চিকিৎসার পর অবশেষে শনিবার বিকেলে মারা যান।
মনতোষের এক আত্মীয় সর্দার উজ্জ্বল নাথ বলেন, বিকেলের দিকে পরিবারের লোকজন জানায় মনোতোষ মারা গেছেন। পরে আমরা বিষয়টি জনতা পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশকে অবহিত করি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা আদ্যোপান্ত নিচ্ছেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একদল পুলিশ পাঠিয়েছি। কারো অভিযোগ না থাকলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পরিবারের পক্ষে ইতোমধ্যে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে সৎকারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
সময়ের আলো/জোই