সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

উখিয়া প্রতিনিধি

সারাদেশ

উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একের পর এক

2026-04-20T11:49:44+00:00
2026-04-20T11:49:44+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত
উখিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে নাফ নদী সংলগ্ন চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধীন পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে আনুমানিক আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের ভেতরে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মো. সাদেক ওরফে হামিদ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা আহত হন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। তার বাবার নাম আমির হোসেন।

জানা গেছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হয়ে তিনি আহত হন।

এর আগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) একই এলাকার চাকমাকাটায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার ক্যাম্প-১৯ এর বাসিন্দা। বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর পাঁচ দিন আগে ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাইনের ওপর পা দিলে বিস্ফোরণে তার একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয় এবং অন্য পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


এ ছাড়া গত ২৯ মার্চ নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। একইভাবে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তেও আরেক বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবিকার তাগিদে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আনছার উদ্দিন বলেন, সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলেও প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম জানান, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি জেনেও অনেকে সীমান্ত অতিক্রম করছেন।

বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। যা এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নাফ নদীর পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন চর ও শূন্যরেখার এলাকাজুড়ে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব মাইন স্থাপন করেছে।

সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   সীমান্ত  মাইন বিস্ফোরণ  রোহিঙ্গা  যুবক  আহত  উখিয়া সীমান্ত  চট্টগ্রাম  মায়ানমার 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: