চট্টগ্রাম নগরীর সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার জেরে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুই সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
এসময় পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা যাবত তাদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে পরীক্ষা স্থগিত হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্স কোর্সের পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও কলেজ শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ক্যাম্পাস এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতিতে নিচে লেখা ছিল ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গিয়ে সেখানে ছাত্র শব্দটি মুছে দেয়। পরে সেখানে লেখা হয় ‘গুপ্ত’। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করে আল মামুন।
বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।একপর্যায়ে মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়ায় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা।
হামলার বিষয়ে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করেছে। ছাত্রদল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আদর্শিক লড়াইয়ের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।
সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও শিক্ষকর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সময়ের আলো/কেএইচও