এবার হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে বৃহদাকার অয়েল ট্যাঙ্কার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত তিনটায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা) ট্যাঙ্কারটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। আগামী ৫ থেকে ৬ মে চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙর এলাকার কাছে গভীর সাগরে ভেড়ার শিডিউল রয়েছে। এই ট্যাঙ্কারে এক লাখ টন ক্রুড আছে।
সৌদি আরবের বন্দর থেকে ক্রুডবাহী বৃহদাকার ট্যাঙ্কার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে লাগে ১২ দিন। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এডেন উপসাগর দিয়ে এটি আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে। ঘুরপথে আসার কারণে ১২ দিনের স্থলে লাগবে ১৫ দিন। অতিরিক্ত তিনদিন সময় বেশি প্রয়োজন হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, অয়েল ট্যাঙ্কারটির নাম ‘এমটি নিনেমিয়া’। এই ট্যাঙ্কারে মোট ১ লাখ টন ক্রুড বহন করা হচ্ছে।
তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ক্রুডবাহী ট্যাঙ্কার চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে রওয়ানা হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সৌদি বন্দর থেকে ট্যাঙ্কারটি চট্টগ্রাম বন্দরের পথে আছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্যাঙ্কারটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে।
ইআরএল সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে তেল শোধনাগারের মূল প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ আছে। ডেড স্টক বা স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ক্রুড দিয়ে উৎপাদন হচ্ছে বলা হলেও সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটেনি। বাস্তবে ইআরএলে এখন কোন ধরনের জ্বালানি তেল উৎপাদন হচ্ছে। একমাত্র কারণ মার্চ মাসে শিডিউল দুটি চালানে ২ লাখ টন ক্রুড চট্টগ্রাম বন্দরে না পৌঁছা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ক্রডের ট্যাঙ্কার চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারেনি। তাই এবার হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প সমুদ্র পথ দিয়ে ক্রুডবাহী ট্যাঙ্কার আসবে চট্টগ্রাম বন্দরে।
এই ট্যাঙ্কারটির দেশীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইম ওশান লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, ক্রুডগুলো আসবে এডেন উপসাগর হয়ে। ওই ট্যাঙ্কারটি আর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে না। তাই নির্ধারিত সময়েই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে সৌদি বন্দর থেকে।
বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। বছরে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয় ১৫ লাখ টন। প্রতিদিন ৫ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা আছে ইআরএলে।
ডিজেল ছাড়াও পেট্রোল,জেট ফুয়েল কেরোসিনসহ কয়েক ধরনের উপজাত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি। তাই চট্টগ্রাম বন্দরে ক্রুডবাহী কোনো ট্যাঙ্কার আসতে পারেনি। এর ফলে অভ্যন্তরীণ উৎস ইআরএল থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ হচ্ছে না। সৌদি থকে এক লাখ টন ক্রুডের সরবরাহ পৌঁছলে ইআরএল আবার চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচও