মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের পুরানকান্দি-খাড়াকান্দি সড়কে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যোগাযোগব্যবস্থার এমন নাজুক অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে হাজারো মানুষের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক আগে পদ্মা নদীর ভাঙনে মাদবরের চর বাজারের উত্তর পাশে পুরানকান্দি এলাকায় একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। এতে সড়কের মাঝখানে বাধা তৈরি হয়ে দুই প্রান্তের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি।
বর্তমানে এলাকাবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে। শুকনো মৌসুমেও নৌকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে স্রোত বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, ফলে অনেক সময় পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
কৃষিনির্ভর এই এলাকায় প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের চাপ থাকে বেশি। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকরা। এতে অনেক সময় লোকসানের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মালেক মিয়া বলেন, একটা সেতুর অভাবে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করে যাচ্ছি। কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারি না, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও কম নয়। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, নিয়মিত স্কুলে যাওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে, ফলে অনেকেই স্কুলমুখী হতে চায় না।
এদিকে একাধিকবার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গেলেও তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে পুরানকান্দি-খাড়াকান্দি এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।
এএডি/