বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ, সংকটে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর

সারাদেশ

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায়

2026-04-23T18:37:12+00:00
2026-04-23T18:38:04+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ, সংকটে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম  আপডেট: ২৩.০৪.২০২৬ ৬:৩৮ পিএম
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি : সংগৃহীত
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই এখন উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায়। এতে ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়। 

তিনি বলেন, মেরামত কাজ চলছে, উৎপাদন স্বাভাবিক করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।


এর আগে থেকেই ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৩ নম্বর ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু হলেও কয়েক মাস পর আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে স্থাপিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

এদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় মজুত দ্রুত বেড়ে গেছে। বর্তমানে খনিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হলেও ব্যবহার না হওয়ায় ইয়ার্ডে মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টনে, যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি।


বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো.শাহ আলম বলেন, কয়লা সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। বিকল্প স্থানে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও উত্তরাঞ্চলের চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি বেড়েছে। 

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   বড়পুকুরিয়া  তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র  ইউনিট  বন্ধ  সংকট  বিদ্যুৎ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: