চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কীটনাশক জাতীয় ঔষধ (কেরির ট্যাবলেট) সেবন করে চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের আমুয়াকান্দি-চর পাথালিয়া এলাকায় তার নিজ ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চিকিৎসকের নাম ডা. গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী রাজিব (৩৮)। সে ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়ির আলমগীর চৌধুরীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডা. রাজিব বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৩৯তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তিনি প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট চেম্বারর রোগী দেখতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়িক আর্থিক ক্ষতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে হতাশায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট রেখে গেছেন। যেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সেখানে উল্লেখ করেন, তার মৃত্যুর জন্য পরিবারের কেউ দায়ী নয়।
নিহতের স্ত্রী ডা. নওরীন বারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের দুটি অবুঝ সন্তান রয়েছে। হঠাৎ এমন ঘটনায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মুফরাত বিন ফারুক জানান, সকালে রোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হই। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মতলব উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র দাস জানান, ভোর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়। খবর পেয়ে আমরা পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল আমুয়াকান্দি-চর পাথালিয়া এলাকার ইটভাটায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। পরে চিকিৎসার জন্য মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও