বালু উত্তোলনে যমুনায় ভাঙন

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ

সারাদেশ

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে নদীতে ধসে পড়েছে বেশ

2026-04-24T06:28:13+00:00
2026-04-24T06:28:13+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বালু উত্তোলনে যমুনায় ভাঙন
হুমকির মুখে মেঘাই বাঁধ,ফসলি জমিসহ বহু স্থাপনা
রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ এএম 
কাজিপুরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি : সময়ের আলো
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে নদীতে ধসে পড়েছে বেশ কিছু অংশ। নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পানির স্রোতে নদীর পশ্চিম পাড়ে তীর সংরক্ষণ এলাকায় আঘাত হানায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অসময়ের এই ভাঙন নদী পাড়ের মানুষের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজিপুর উপজেলার কাজিপুর মৌজায় বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী একটি মহল শুষ্ক মৌসুমে কাজিপুর ইকোপার্ক এলাকা, পলাশপুর ঘাট, মেঘাই ঘাট, ঢেকুরিয়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির স্রোত এসে আঘাত হানছে নদীর পশ্চিম পাড়ে তীর সংরক্ষণ এলাকায়। এতে গত শুক্রবার রাতে পলাশপুর ঘাট এলাকায় দুটি স্থানে বেশ কিছু এলাকা নদীতে ধসে পড়েছে।

কাজিপুরে প্রায় ৪০টি বালুর পয়েন্ট রয়েছে। এসব পয়েন্ট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকার পতনের পর এসব বালুর পয়েন্ট এখন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিদিন এসব বালুর পয়েন্ট থেকে শত শত ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে। বিএনপির কোন নেতার নামে বালু মহাল ইজারা নেই বলেও জানায় স্থানীয়রা। 

সরেজমিন জানা যায়, ২০১০ সালে কাজিপুরে যমুনা নদীর পশ্চিম অংশে তীর সংরক্ষণকাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাথরের ব্লক আর বালুর বস্তা দিয়ে নদীর পশ্চিম তীর বেঁধে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে কাজ শেষ হয়। চলতি শুষ্ক মৌসুমে শুক্রবার রাতে দুটি স্থানে বেশ কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বাঁধভাঙা আতঙ্ক বিরাজ করছে। হুমকির মধ্যে পড়েছে মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমিসহ বেশ কিছু স্থাপনা। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ এলাকা ধসে যাওয়ায় তারা এখন শঙ্কিত।

পলাশপুর গ্রামের মোমেনা খাতুন বলেন, জমিজমা যা ছিল তা অধিকাংশ নদীর মধ্যে চলে গেছে। যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। নদীতে তো এখন বেশি পানি নেই। তারপরও গত দুই দিন আগে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। সারা বছর এই এলাকা থেকে বালু তুলছে। নিষেধ করার কোনো লোক নেই।


পলাশপুর ঘাট এলাকার শান্ত বলেন, আমার বাড়ির সামনে থেকে সারা বছরই বালু তোলা হয়েছে। যতটুকু জানি এই এলাকায় কোনা বালুমহাল ইজারা নেই। তারপরও বালু তোলা হলো, কেউ বন্ধ করল না। গত শুক্রবার যেভাবে নদীর তীর নদীতে ধসে পড়ল তাতে মনে হচ্ছে এবার আমার বাড়ি আর থাকবে না।

এ বিষয়ে জানার জন্য সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাঁধ, গ্যাস পাইপলাইন ও ব্রিজ এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে। আমরা বলেছি ইজারাকৃত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি। জরিমানা করেছি। আমরা কাউকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেব না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, কাজিপুরে ধসে যাওয়া স্থানে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। নদীতে বৈধ ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়। যারা অবৈধভাবে বালু তুলছেন আমরা জানতে পারলে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দিচ্ছি। বাঁধের ক্ষতি করে কেউ বালু তুলতে পারবে না।


এফআর


  বিষয়:   হুমকি  মেঘাই বাঁধ  ফসলি জমি  স্থাপনা  বালু  উত্তোলন  যমুনা  ভাঙন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: