কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় আগাম বর্ষণের পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর বোরো ধান। কাটার অপেক্ষায় থাকা পাকা ফসল পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পানান বিলের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে পানি বের হওয়ার পথ বিভিন্ন স্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার পানান বিলে চৈত্রের শেষ ও বৈশাখের শুরুতেই টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হঠাৎ করে পানি বেড়ে যায়। এতে কয়েক দিনের ব্যবধানে শত শত একর পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। যে জমিগুলোতে আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো এখন পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ জলরাশিতে। এতে এক বছরের শ্রম, ঘাম ও আশা মুহূর্তেই ভেসে গেছে বলে জানান কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা দাবি করেন, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, এই ক্ষতির পেছনে রয়েছে মানুষের অবহেলাও। পানান বিলের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে পানি প্রবেশের পথ থাকলেও বের হওয়ার পথ বিভিন্ন স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বারইখালী খালের ওপর মাছ ধরার উদ্দেশ্যে তৈরি করা অবৈধ বাঁধ ও ফিশারির কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
পানান বিল ঘিরে ডাংরি, দক্ষিণ পানান, সৈয়দপুর, গাংগাটিয়া, লাখুহাটি আতিরাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ সদর ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অনেক কৃষকের জমিও এ বিলে অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, শুধু হোসেনপুর উপজেলাতেই দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আশপাশের উপজেলাগুলো মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চোখে এখন চরম অনিশ্চয়তা। তারা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন এবং পরিবার চালাবেন তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।
এ অবস্থায় কৃষকদের একটাই দাবি– যত দ্রুত সম্ভব পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন কৃষকরা।
এফআর