উইলিয়াম শেকসপিয়র বাঁচব কি বাঁচব না, এই তো প্রশ্ন

হাসনাইন সাজ্জাদী

সাহিত্য

উইলিয়াম শেকসপিয়র ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি, অভিনেতা ও নাট্যকার। তাকে ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি বলা হয়। দীর্ঘ বছর ধরে

2026-04-24T21:47:12+00:00
2026-04-24T21:47:12+00:00
 
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
উইলিয়াম শেকসপিয়র বাঁচব কি বাঁচব না, এই তো প্রশ্ন
হাসনাইন সাজ্জাদী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম 
উইলিয়াম শেকসপিয়র। ছবি : সংগৃহীত
উইলিয়াম শেকসপিয়র ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি, অভিনেতা ও নাট্যকার। তাকে ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি বলা হয়। দীর্ঘ বছর ধরে তার সাহিত্য সময়ের অনিবার্যতায় মাহাত্ম্য বিলিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বসাহিত্যকে বোঝার ও জানার জন্য যত গভীরে চর্চা চলছে তত ওপরে উঠে আসছেন শেকসপিয়র। তাই ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের চিরায়ত ধারার প্রধানের পদ ও পথ এখনও তাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য এলিজাবেথীয় ও জেকবীয় লেখকদের তুলনায় শেকসপিয়রের জীবন সম্পর্কে যেমন অধিক পরিমাণে তথ্য পাওয়া যায়, তেমনি তার সাহিত্য সর্বাধুনিকতাকে ধারণ করে। সাম্প্রতিক সাহিত্য আলোচনায় তার রচনা সমগ্র এখনও আগের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।

তার সাহিত্য পাঁচ শতাধিক বছর পেরিয়েও কেন আজও প্রাসঙ্গিক- এটি বোঝার জন্য তার রচনার ভেতরের মানবজীবনের গভীরতা ও সার্বজনীনতাকে দেখতে হয়।

প্রথমত শেকসপিয়রের লেখা মানুষের মৌলিক অনুভূতিগুলোকে স্পর্শ করে- ভালোবাসা, ঈর্ষা, ক্ষমতার লোভ, দ্বন্দ্ব, হতাশা, নৈতিক সংকট। যেমন- ‘হেমলেট’ নাটকে মানুষের আত্মসংকট ও সিদ্ধান্তহীনতা, ‘মেকবেথ’ নাটকে ক্ষমতার লোভ ও তার পরিণতি, ‘কিংবা রোমিও জুলিয়েট’ প্রেম ও সামাজিক বাধা, এসব বিষয় আজকের সমাজেও একইভাবে বিদ্যমান। তাই পাঠক সহজেই নিজের জীবনের সঙ্গে এসব মিল খুঁজে পায়।

দ্বিতীয়ত তার সাহিত্য সমাজ ও রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ক্ষমতা দখলের লড়াই, বিশ্বাসঘাতকতা, নেতৃত্বের সংকট- এসব আজকের বিশ্বরাজনীতিতেও দেখা যায়। ফলে শেকসপিয়রের নাটক শুধু সাহিত্য নয়, সমাজ বিশ্লেষণেরও একটি আয়না হয়ে ওঠে।

তৃতীয়ত ভাষা ও প্রকাশভঙ্গির দিক থেকে তিনি অনন্য। তিনি ইংরেজি ভাষায় অসংখ্য নতুন শব্দ ও অভিব্যক্তি যোগ করেছেন, যেগুলো আজও ব্যবহৃত হচ্ছে। তার উপমা, রূপক ও সংলাপ এত শক্তিশালী যে সেগুলো যুগ পেরিয়েও জীবন্ত থাকে।

চতুর্থত শেকসপিয়রের রচনাগুলো নতুন নতুনভাবে উপস্থাপনযোগ্য। তার নাটকগুলো বারবার মঞ্চে, চলচ্চিত্রে, এমনকি আধুনিক রূপান্তরে নতুন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হচ্ছে। ফলে প্রতিটি প্রজন্ম তার সাহিত্যকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারে।

সবশেষে তার সাহিত্য মানুষের চিরন্তন প্রশ্নগুলোকে সামনে আনে- আমি কে, কী সঠিক, কী ভুল, জীবনের উদ্দেশ্য কী। এই প্রশ্নগুলো কখনো পুরোনো হয় না, তাই শেকসপিয়রের প্রাসঙ্গিকতাও শেষ হয় না। সংক্ষেপে বলা যায়, শেকসপিয়ারের সাহিত্য সময়ের সীমা ছাড়িয়ে মানুষের চিরন্তন অভিজ্ঞতা ও চিন্তাকে ধারণ করে- এ কারণেই আজও তা সমানভাবে জীবন্ত ও প্রয়োজনীয়।

এখানে একটি শোনা কথার বর্ণনা তার সাহিত্যের ব্যাপকতা বোঝার জন্য উদ্ধৃত করা যেতে পারে। ঘটনাটি হাল আমলের। একবার কয়েকজন ইংরেজ সাহিত্যিক ও কবি আড্ডা দিচ্ছেন। শেকসপিয়রের হাজার উক্তি থেকে শ্রেষ্ঠ উক্তি এবং শ্রেষ্ঠ কবিতা কোনটি তা নির্ণয়ের খেয়াল হলো তাদের। কিন্তু তার কাজ এত বিস্তৃত ও প্রভাবশালী যে ‘সবচেয়ে বিখ্যাত’ উক্তি বা শ্রেষ্ঠ কবিতা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ প্রসঙ্গ শেষ করেন।

তার বেশ কিছু রচনা ও পঙ্‌ক্তি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হেমলেট নাটকের সবচেয়ে বহুল উদ্ধৃত লাইনটিকে মনে করা হয়। 

যেমন- ‘বাঁচব কি বাঁচব না, এই তো প্রশ্ন।’ এই লাইনটি থেকে আমরা মানুষের অস্তিত্ব, জীবন-মৃত্যু ও দ্বন্দ্বের গভীর তত্ত্বকে খুঁজে পাই।

বিজ্ঞান যুগে এসে মানুষের অস্তিত্ব, জীবন-মৃত্যু ও দ্বন্দ্বের প্রশ্নগুলো মানবচিন্তার একেবারে কেন্দ্রস্থলে চলে এসেছে। ফলে সাহিত্য, ধর্ম, বিজ্ঞানÑ সব জায়গাতেই এগুলো নিয়ে ভাবা হয়েছে। উইলিয়াম শেকসপিয়র তার হেমলেটে যেমন এই প্রশ্ন তুলেছিলেন, তেমনি তাত্ত্বিকরাও শেকসপিয়রের দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

১. মানুষের অস্তিত্ব : অস্তিত্ব মানে ‘আমি আছি’- কিন্তু এই থাকা কী? দর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারা অস্তিত্ববাদ। অস্তিত্ববাদ বলছে- মানুষ আগে জন্ম নেয়, তারপর নিজের অর্থ নিজেই তৈরি করে। পৃথিবীতে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা আসি না; আমাদের কাজ, সিদ্ধান্ত, চিন্তাই আমাদের পরিচয় গড়ে তোলে। এই ধারণাকে জোর দিয়ে বলেছেন জন পল সার্টরি। তিনি বলেন, ‘মানুষ স্বাধীন, আর সেই স্বাধীনতার দায়িত্বও তার নিজের।’

২. জীবন ও মৃত্যুর তত্ত্ব : জীবন হলো অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক, সময়- আর মৃত্যু হলো সেই ধারার সমাপ্তি, তবে এর অর্থ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত আছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে : মৃত্যু কোনো শেষ নয়, বরং অন্য এক জগতে যাত্রা।
দার্শনিক দৃষ্টিতে : মৃত্যু জীবনের অর্থকে আরও গভীর করে, কারণ সীমাবদ্ধ সময়ই আমাদের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
বৈজ্ঞানিকভাবে : জীবন হলো জৈব প্রক্রিয়া, মৃত্যু সেই প্রক্রিয়ার থেমে যাওয়া।
দার্শনিক সক্রেটিস মনে করতেন, মৃত্যু হয়তো এক ধরনের মুক্তি- অজানা কিন্তু ভয় পাওয়ার মতো কিছু নয়।

৩. দ্বন্দ্ব : মানুষের ভেতরে ও বাইরে সবসময় একটি দ্বন্দ্ব কাজ করে। যেমন- ক. অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, খ. ভালো-মন্দের লড়াই, গ. ইচ্ছা বনাম নৈতিকতা ও ঘ. ভয় বনাম সাহস।
আবার বাহ্যিক দ্বন্দ্ব : ১. ব্যক্তি বনাম সমাজ, ২. ব্যক্তি বনাম ব্যক্তি ও ৩. মানুষ বনাম প্রকৃতির দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বই মানুষকে ভাবতে, সিদ্ধান্ত নিতে ও এগিয়ে যেতে বাধ্য করে।

৪. গভীর তত্ত্ব : তিনটির সম্পর্ক ক. অস্তিত্ব, জীবন-মৃত্যু ও দ্বন্দ্ব আসলে একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। যেমন- অস্তিত্ব আমাদেরকে প্রশ্ন করতে শেখায় : ‘আমি কে?’ খ. জীবন ও মৃত্যু শেখায় : সময় সীমিত, তাই অর্থপূর্ণ কিছু করতে হবে। আর দ্বন্দ্বই আমাদেরকে সেই অর্থ খুঁজে পেতে বাধ্য করে।
এ কারণেই হেমলেটের সেই বিখ্যাত প্রশ্ন, ‘বাঁচব কি, না বাঁচব’- শুধু একটি সংলাপ নয়, বরং তা মানুষের চিরন্তন চিন্তার প্রতিফলন।

শেকসপিয়র আমাদের শিখিয়েছেন : ক. অস্তিত্বের তত্ত্ব বলে, ‘আমরা নিজেরাই নিজের অর্থ তৈরি করি।’ খ. জীবন-মৃত্যুর তত্ত্ব বলে, ‘সীমিত সময়ই জীবনকে মূল্যবান করে।’ এবং গ. দ্বন্দ্ব তত্ত্ব বলে, ‘সংগ্রামই মানুষকে সত্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই বলা হয়, মানুষের অস্তিত্ব, জীবন-মৃত্যু ও দ্বন্দ্বের প্রশ্নগুলো মানবচিন্তার একেবারে কেন্দ্রস্থলে প্রোথিত।

এভাবে তার সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা নির্বাচন করাও কঠিন। তার অনেক সনেট বিখ্যাত, তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হিসেবে ধরা হয় একটি সনেটকে যার শুরুটা এমন- ‘এটি প্রেম, সৌন্দর্য ও চিরস্থায়িত্বের এক অনন্য কাব্যিক।’

১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে লন্ডনে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লর্ড চেম্বারলেইনস ম্যান নামে একটি নাট্য কোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-স্বত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে কিংস মেন নামে পরিচিত হয়। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগৎ থেকে সরে আসেন এবং স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। শেকসপিয়রের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া না গেলেও তার চেহারা, যৌনপ্রবৃত্তি, ধর্মবিশ্বাস, এমনকি তার নাটকগুলো নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।

শেকসপিয়রের পরিচিত রচনাগুলোর অধিকাংশই মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৫৮৯ থেকে ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে। তার প্রথম দিকের রচনাগুলো ছিল মূলত মিলনান্তক ও ঐতিহাসিক নাটক। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে তার দক্ষতায় এই দুটি ধারা শিল্পসৌকর্য ও আভিজাত্যের মধ্যগগনে উঠেছিল। এরপর ১৬০৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানত কয়েকটি বিয়োগান্ত নাটক রচনা করেন। এই ধারায় রচিত তার হেমলেট, কিং লিয়ার ও ম্যাকবেথ ইংরেজি ভাষার কয়েকটি শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। জীবনের শেষ পর্বে তিনি ট্র্যাজিকমেডি রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। এই রচনাগুলো রোম্যান্স নামেও পরিচিত। এই সময় অন্যান্য নাট্যকারের সঙ্গে যৌথভাবেও কয়েকটি নাটকে কাজ করেন তিনি।

তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত নাটকগুলোর প্রকাশনার মান ও প্রামাণ্যতা সর্বত্র সমান ছিল না। জানা যায়, ১৬২৩ সালে তার দুই প্রাক্তন নাট্যসহকর্মী দুটি নাটক বাদে শেকসপিয়রের সমগ্র নাট্যসাহিত্যের ফার্স্ট ফোলিও প্রকাশ করেন। তার সমকালে শেকসপিয়র ছিলেন একজন সম্মানিত কবি ও নাট্যকার। কিন্তু মৃত্যুর পর তার খ্যাতি সাময়িকভাবে হ্রাস পায়। অবশেষে ঊনবিংশ শতাব্দীতে খ্যাতির শীর্ষে ওঠেন তিনি। রোমান্টিকরা তার রচনার গুণগ্রাহী ছিলেন। ভিক্টোরিয়ানরা রীতিমতো তাকে পূজা করতেন; জর্জ বার্নার্ড শর ভাষায় যা ছিল চারণপূজা।

একুশ শতকে এসেও গবেষণা ও নাট্য উপস্থাপনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তার রচনাকে পুনরাবিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়। আজও তার নাটক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুচর্চিত। সারা বিশ্বের নানা স্থানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা আঙ্গিকে এই নাটকগুলো মঞ্চস্থ ও ব্যাখ্যাত হয়ে থাকে। ফলে ইংরেজি নবজাগরণে শেকসপিয়র বিখ্যাত থেকে যান।

জন্ম ও পিতৃপরিচয় : জন্ম ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল।

উইলিয়াম শেকসপিয়রের বাবার নাম জন শেকসপিয়ার ও মায়ের নাম মেরি আরডেন শেকসপিয়র। তাদের তিনটি সন্তান হয়েছিল। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল বায়ান্ন বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। শেকসপিয়রের জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্ট্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিয়ে করেন। উত্তরাধিকার বলতে অ্যানির গর্ভে শেকসপিয়রের তিনটি সন্তান হয়েছিল। তারা হলেন- ১. সুসান এবং ২. হ্যামনেট ও জুডিথ নামে দুই যমজ।

শেকসপিয়রের মূল উত্তরাধিকার হলো তার সৃজিত সাহিত্য যার শিল্পধারা আমরা বহন করে নিয়ে যাব আগামীর পথে।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   উইলিয়াম শেকসপিয়র  সাহিত্য  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: