তিনটি কবিতা

শান্তা এফ. আরা

সাহিত্য

ইট’স অল ওভার নাউ, বেবী ব্লুক্রিপ্টিক সাইলেন্সের তপ্ত ওমে ঘুম ভাঙে;ঘেমো গ্লানি গায়ে জড়ায়ে জেগে উঠি আগলি সামারে।বোশেখ বন্দনার এত

2026-04-25T21:38:21+00:00
2026-04-26T18:59:40+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সাহিত্য
তিনটি কবিতা
শান্তা এফ. আরা
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৮ পিএম  আপডেট: ২৬.০৪.২০২৬ ৬:৫৯ পিএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ইট’স অল ওভার নাউ, বেবী ব্লু

ক্রিপ্টিক সাইলেন্সের তপ্ত ওমে ঘুম ভাঙে;
ঘেমো গ্লানি গায়ে জড়ায়ে জেগে উঠি আগলি সামারে।

বোশেখ বন্দনার এত শোরগোল
কেন বড় বেশি বাজতে থাকে জান্তব কোলাহলে?

যারা ভোর ভোর সুর তোলে—
সাদা শাড়ি, লাল পেড়ে, বেলী ফুলের মালায় সুশোভিত কেশরাজি—
তারা সুন্দর। তাদের হাসি সুন্দর।
ঘেমে-নেয়ে উচ্ছল-খলখল তাদের উদ্দাম ঘুরে বেড়ানো সুন্দর।

সুন্দরদের দেখি।
রোদ ঝাপসা হয়—
নাকি আমারই চোখ?

বৃষ্টি নামে কী আজ?
নাকি নামবে কোন কাল্পনিক কুয়াশা মোড়ানো শীতে?

আসো হে তীব্র হেমন্ত—
আবাহনে বেজে উঠতে চায় ফোর্টিজ ব্লুজ

কিন্তু কমলারা শুকায়ে কাঠ—
উবে গেছে সাইট্রাসি গন্ধ- চিতাগ্নিতে।

চলে গেছে বসন্ত দিন।
ই মাইনরে নকটার্ন, বেজে ওঠে সামারটাইম স্যাডনেজ।

অস্তিত্বের গোপন আস্তিনে ঘাপটি মারা
ঠিকঠাক খাপে খাপ হাসিখুশি রঙচঙে মুখে
কখনো পরতে যাই-ও না আর মিছেমিছি
দুঃখী দুঃখী ধার করা পেলব মুখোশ।

মুখোশের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে মুখ—
স্মিত হাস্যে।

শুষে তো নিলো মুখোশ তোমার— সমস্ত হুতাশ, 
মাথার ভেতরকার ব্যক্তিগত ভীষণ হু হু সামুদ্রিক বাতাস।

অদূরে আমাদের বাঘে খাওয়া দিন
সমুদ্র তাড়ানো হাওয়া হয়ে গেছে বিলীন,
ঈষৎ মদ ও মেদুরে
ঘোর ঘোর পাহাড় মোড়ানো দুপুরে।

পৌরাণিক বাস্তুসাপ হয়ে বসত করা
অন্তর্গত আদুরে বিড়াল; 
গুটিসুটি যে ছিলো মাথার ভেতরে—

যেহেতু আদর নাই—
নিদারুণ অবহেলা গুটায়ে ফেলে তার লেজ,
চুপসায়ে যায় তার মিউ।

বিড়াল উবে গেলে পরে—
পড়ে থাকে খুলি আর কংকাল।

এক গোরস্তান মগজে নিয়া ঘুমাইতে যাই…
সুদীর্ঘ ঘুম এক…

যেহেতু একাই নামাইতে হয় পালের ছেঁড়া মাস্তুল।

ইট’স অল ওভার নাউ, বেবী ব্লু।

ফরগেট দ্য ডেড ইয়ু হ্যাভ লেফট

মাথার ভেতরে উদ্দাম ঘূর্ণি,
বেপরোয়া ব্লু লাইটে বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায়
ব্ল্যারি দৃশ্য ও কল্পের কী কী তুমি তুলে নিলে
মদের বোতলের ভরা তারল্যে?

কয় পেগ ঢাললে নিজের ভেতরে 
ঘুণে ধরা সাফারিংস তোমার?
পুরনো বিকল, বিবশ, বিস্মৃতির আবছা খোলস?

হেই! পোয়েটিক ব্রোকেন ম্যান?

মেঘ কাতর তোমার বিড়ালাক্রান্ত সময় কী
নেমে আসে ফুটফুটে জোছনালোকে?

অবিরাম পাহাড়ি বরিষণ থেকে বেরিয়ে গেছো—
দেখতেছো এখন কুত্তার পেটের ভেতরে সেঁধিয়ে যাওয়া
ঝাঁ চকচকে দুপুর।

অল্প একটু বিড়াল চেনা সময়
ছুঁড়ে ফেলে বিস্মরণের অতল নর্দমায়
অকাতরে ঘুমোচ্ছ তুমি

ঘুমোও মৃদু হাসি ঠোঁটে চেপে
স্বপ্নে দেখা স্বপ্ন বানাইতে থাকো—
সুস্বপ্নে।

ফরগেট দ্য ডেড ইয়ু হ্যাভ লেফট
দে উইল নট ফলো ইয়ু।

এক্সিট সং ফর  ডেড সৌল

মানুষের সাথে কাটাইতে না পারা 
নিতান্ত রোজকেরে সম্পর্কের টানাটানি ক্লান্ত করে
চুষে খায় মগজ।

মেগাসিটির শহুরে ক্লান্তি ঢুকে পড়ে
মফঃস্বলি ক্লাউডি বিষাদে।

মানুষ হইয়া টিকে থাকার কৌশল শিখি নাই যেহেতু;
মানুষের প্রতি প্রেম জাগে না।

তাই নিয়ম করে রোজ দু’বেলা কুকুরদের খাইতে দিই,
আদুরে ওম বিলাইতে থাকি মার্জার সকলে—
কুত্তার বাচ্চারা কাঁধ বেয়ে ঝুলে পড়ে
গলা বেয়ে নেমে আসে বিড়াল ছানারা

হঠাৎ তুমুল বর্ষা নামে বাউরী বাতাস উপেক্ষা করে—
নাকি ঘনঘোর আচ্ছন্নতায় জেগে ওঠে কল্পিত পাহাড়
কুয়াশার আচ্ছাদনে?

চোখ আর্দ্র যেহেতু, মগজ ঝাপসা।

এইসব বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে 
বুকের ভেতর আশ্চর্য নীলাভ চড়ুই এক ফড়ফড়ায়

ডানার তিরতিরে কাঁপুনিতে কী তার পিপাসা পায়? 
খিদে পায়?

স্মৃতির সিন্দুক হাতড়ে তুলে আনি দানা যা-কিছু,
ব্যক্তিগত সমুদ্র ছেঁচে তুলে আনি নোনা জল।

কিন্তু চড়ুই!
সে-তো দানাপানি মুখে তোলে না!

চড়ুই কী শুকায়ে যাবে?
চড়ুই আসলে কী খায়?

— আত্মা।

তারে আত্মা কেটে খাওয়ায় 
রোজ সকাল-সন্ধ্যা-রাত্রি দ্বিপ্রহরে
পূর্ণ ভক্ষণ তার গোল্ডেন আওয়ারে।

ক’মাসে বেশ ডাগর হয়ে উঠেছে পাখিটি
উড়াল দেওয়ার সময় হইলো বুঝি তার—
যেহেতু আত্মাও আগেই হয়েছে খাঁচা ছাড়া!

আত্মাহীন মানুষের খোলস জড়ায়ে শরীরে
শুনি দূরে- এক নীলাভ চড়ুই গাইতেছে সকরুণ
এক্সিট সং ফর আ ডেড সৌল।


  বিষয়:   কবিতা  সাহিত্য  শান্তা  এফ  আরা 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: