সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে সাইবার নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হওয়া কলেজছাত্র নিশাদ ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের বিশেষ হস্তক্ষেপে ও আইনি সহায়তায় রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পঞ্চগড় জেলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারাফটকে নিশাদ মুক্তি পেলে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে আবেগঘন পরিবেশে গ্রহণ করেন।
এর আগে বিকেলে পঞ্চগড় শিশু আদালতের বিচারক হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নিশাদ জামিনে থাকবে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষার্থী নিশাদ ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে একটি কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করলে পুলিশ নিশাদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
বিষয়টি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নজরে এলে তিনি জানতে পারেন অভিযুক্ত নিশাদ একজন শিক্ষার্থী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক। তার সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রতিমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশাদের বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ছেলেটি আমার সন্তানের বয়সী। ভুলবশত বা কারও প্ররোচনায় সে এমনটি করেছে। আমি চাই না একটা ভুলের জন্য তার জীবন নষ্ট হোক।’
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় তার নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মিলন আদালতে জামিনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে আমি এই মামলার দায়িত্ব নেই। তিনি শুরু থেকেই বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজ তাকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পঞ্চগড় নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান বলেন, ‘নিশাদ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং প্রতিমন্ত্রী ও দেবীগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের অনুরোধে বিষয়টি অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।’
ছেলের কারামুক্তিতে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিশাদের বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে না বুঝে বড় অপরাধ করেছিল। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী যে উদারতা দেখিয়েছেন, তা বিরল। আমরা উনার কাছে চিরঋণী।’
মুক্তি পেয়ে নিশাদ নিজেও তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানায়।
সময়ের আলো/জোই