অসময়ে পদ্মায় ভাঙন, ঝুঁকিতে কৃষি জমি ও বসতভিটা

রেজাউল করিম, গোয়ালন্দ

সারাদেশ

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি ও মুন্সীবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নির্ঘুম রাত ও

2026-04-28T14:38:04+00:00
2026-04-28T14:38:04+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
অসময়ে পদ্মায় ভাঙন, ঝুঁকিতে কৃষি জমি ও বসতভিটা
রেজাউল করিম, গোয়ালন্দ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৮ পিএম 
নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ছবি : সময়ের আলো
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি ও মুন্সীবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নির্ঘুম রাত ও আতঙ্কে দিন কাটছে পদ্মা পাড়ের মানুষের। অসময়ে নদী ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ততক্ষণে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি। এভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা মানচিত্র থেকেই মুছে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখনই নদী ভাঙন রোধ না করলে নদী পাড়ে যারা বসবাস করে তাদের ভিটেমাটি ভেঙে অন্যত্র চলে যেতে হবে। 

জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ঘর, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাঁওসহ কয়েকশ বসত বাড়িঘর। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সরজমিনে ভাঙন কবলিত স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন দেখতে নদীর তীরে ভিড় করছে স্থানীয়রা। তবে তাদের চোখে মুখে স্পষ্ট উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা গেছে। তাদের একটাই দাবি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পদ্মার ভাঙন রোধ করে বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। 

এদিকে বহুল আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর রক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও প্রায় সাত বছরেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সর্দার ও কুদ্দুস সর্দার জানান, আমার বাবার ১০০ বিঘা জমি ছিলো। যা ছিলো সব নদীতে বিলীন হতে এখন মাত্র আমাদের ছয় ভাইয়ের ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। এই এক বিঘা জমি দিয়েই কৃষি কাজ করে আমাদের সংসার চলে। এটুকু নদীতে চলে গেছে পথে বসতে হবে আমাদের। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খবির সর্দার, লোকমান সর্দার জানান, গত কয়েকদিনে নদী ভাঙনে কাউয়াল জানি ও মুন্সীবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় তিন কাঠা ধানের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলি জমিও হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় আরও জমি নদীগর্ভে চলে যাবে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, অসময়ের এই ভাঙনে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে কাজ করা হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   পদ্মায় ভাঙন  কৃষি জমি  বসতভিটা  গোয়ালন্দ 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: