পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে সহসভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে জাতিসংঘে তীব্র বিতণ্ডায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিউইয়র্কে শুরু হওয়া ১১তম এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলনে ৩৪ জন সহসভাপতির মধ্যে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করায় কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভিয়েতনামের জাতিসংঘ দূত দো হুং ভিয়েতের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে জোটনিরপেক্ষ ও অন্যান্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইরানকে এই পদের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে মার্কিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও এই নির্বাচনকে এনপিটির জন্য একটি ‘অপমান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ অঙ্গীকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে আসছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে অসহযোগিতা করছে। বিষয়টিকে তিনি সম্মেলনের গ্রহণযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে আইএইএ-তে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যারা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং বর্তমানেও তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে। এমন একটি দেশের পক্ষে অন্যদের কমপ্লায়েন্স বা নিয়ম মানার বিষয়ে বিচারকের আসনে বসা অযৌক্তিক।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পরমাণু ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তবে তেহরান বরাবরই তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
গতকাল সোমবার ইরান একটি নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে নৌ-অবরোধ ও যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসবে না। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা তেহরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
/কহু