চাঁদপুরে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ৪৪৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর

সারাদেশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে কাল বৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা

2026-04-28T20:22:03+00:00
2026-04-28T20:22:03+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চাঁদপুরে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ৪৪৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২২ পিএম 
বজ্রসহ প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ছবি : সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে কাল বৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার অন্তত ৪৪৫ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এতে বোরো ধান, ভুট্টা, পাট, তিল, মুগ ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। কিন্তু  কৃষকদের জন্য তা নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট আক্রান্ত জমির মধ্যে বোরো ধান ৩২০ হেক্টর, ভুট্টা ৫০ হেক্টর, পাট ২০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা ৫ হেক্টর, তিল ৫ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন মুগ ৫ হেক্টর রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ  নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বোরো ধানের মাঠে ধান পাকতে শুরু করেছে। কেউ কেউ ধান কাটা শুরু করেছেন, আবার অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক কৃষক ধান কেটে জমিতে রেখে এসেছিলেন। 

অন্যদিকে ভুট্টাও পাকতে শুরু করেছে।কেউ কেউ তা তুলে বাড়ির উঠোনে শুকাতে দিয়েছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

এছাড়া উপজেলার কয়েকটি স্থানে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে আছে। এতে সড়ক চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ওঠারচর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকার (৩৫) বলেন, গত কয়েক বছরের পর এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু রোববার রাতের শিলাবৃষ্টির কারণে আমার জমির প্রায় ২০ শতাংশ পাকা ধান পড়ে গেছে। ধান কাটার উপযুক্ত সময় ছিল। এখন বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।


দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের ভুট্টা চাষী আব্দুল হান্নান শিকদার (৫৫)বলেন, কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড়ে আমার ১০০ শতাংশ জমির সম্পূর্ণ ভুট্টা গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছিল। গতকাল আবার শিলা বৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে। এতে ভুট্টার ওপর আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

পাট চাষী দেলোয়ার হোসেন জানান, নতুন করে পাটের চাষ করেছি অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে পাটের কোমল গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে গেছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালতলী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম (৫২) জানান, তিনি তার জমিতে ঢেঁড়স ও ডাঁটা চাষ করেছিলেন। শিলাবৃষ্টিতে গাছের পাতা ছিঁড়ে গেছে এবং অনেক গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে সবজি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারী হলেও শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর কারণে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের দ্রুত কাটা ধান নিরাপদ স্থানে নেওয়া, ভুট্টা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

/কেএইচও


  বিষয়:   চাঁদপুর  কালবৈশাখী  শিলাবৃষ্টি  ফসলি জমি  ক্ষতিগ্রস্ত 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: